Rath Yatra: কীভাবে ধাপে ধাপে শুরু হয় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার প্রস্তুতি
৫০ ফুট উঁচু রথটি বানিয়েছিল মার্টিন বার্ন কোম্পানি।
Truth of Bengal: এবছর পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় তৈরি হয়েছে সুদৃশ্য জগন্নাথ ধাম মন্দির। এবছর প্রথমবার রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে দিঘায়। প্রতি বছর রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবিদেশের কোটি কোটি ভক্ত ও পর্যটক হাজির হন পুরীতে। পুরীর পাশাপাশি ব্রজভূমেও সাড়ম্বরে পালিত হয় রথযাত্রা। মথুরাতে বৈদিক মন্ত্রোচ্চরণের মাধ্যমে শুরু হয় রথযাত্রা। আবার বৃন্দাবনে মদনমোহন, গোবিন্দদেব আর গোপীনাথ মন্দির থেকে আলাদা সময় রথযাত্রা উৎসবের সূচনা হয়। ৩ দেবতাকে নিবেদন করা হয় আমরস। ভক্তদের আম দেওয়া হয়। ভক্তিগীতির তালে তাল মিলিয়ে ভক্তরা মেতে ওঠেন নৃত্যে। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বারিপদায় আবার সুভদ্রা দেবীর রথ টানেন মহিলারা। ১৯৭৫ সাল থেকে এমনই হয়ে আসছে (Rath Yatra)।
বাংলায় বিখ্যাত রথযাত্রা উৎসব হয় হুগলির মাহেশে। মহাপ্রভু চৈতন্যদেব এই রথের নাম দিয়েছিলেন নবনীলাচল। ৫০ ফুট উঁচু রথটি বানিয়েছিল মার্টিন বার্ন কোম্পানি। এই মেলার প্রেক্ষাপটে রাধারানি উপন্যাস লেখেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র। মাহেশের পাশাপাশি মহিষাদল রাজবাড়ির গৃহদেবতা মদনমোহন জিউয়ের রথযাত্রা উৎসব বিশেষ উল্লেখযোগ্য। জানা যায়, ১৭৭৬ সালে এই উৎসবের সূচনা করেন রানি জানকীদেবী। রথের উচ্চতা ৭৫ ফুট। এছাড়াও আছে ইসকনের রথ। ১৯৬৭ সালে প্রথমবার সানফ্রান্সিসকোয় রথযাত্রার সূচনা করেন ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। দেশকালের সীমানা ছাড়িয়ে রথযাত্রা তাই আজ বিশ্বজনিন উৎসবে পরিণত হয়েছে (Rath Yatra)।
আরও পড়ুনঃ Jagannath Celebration: শুক্রবার আড়াইটা থেকে দীঘায় রথযাত্রা
বহুদিন আগে থেকেই রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। প্রতি বছর পুরীতে জগন্নাথ দেব, বলরাম দেব ও সুভদ্রা দেবীর রথ নতুন করে তৈরি করা হয়। ৩ দেবদেবী ও পার্শ্ব দেবতা, ঘোড়া, সারথী আর কলসের মূর্তি নির্মাণ করা হয় ১২ বছর অন্তর হওয়া নবকলেবরের সময়। প্রতি বছর ওড়িশার বন দফতর বিনামূল্যে কাঠ সরবরাহ করে রথ তৈরির জন্য। নয়াগড়, খুর্দা অঞ্চল থেকে কাঠ বসন্তপঞ্চমীর দিন পুরীর শ্রী মন্দিরে এসে পৌঁছোয়। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হয় রথের নির্মাণ কাজ। চিরাচরিত অগ্নিপুজো করার পর পুরীর রাজপ্রাসাদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। দেবদেবীর চন্দনযাত্রা হয়। এরপর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হয় স্নানযাত্রা। রত্নবেদী থেকে নামিয়ে বড়ো বেদীর ওপর স্থাপন করা হয় জগন্নাথ দেব, বলরাম দেব ও সুভদ্রা দেবীকে। ১০৮ ঘড়ার জলে স্নান করানো হয়। পুজোর রীতি অনুসারে ২ সপ্তাহ ধরে দেবদেবী অসুস্থ হয়। এর নাম অনবসর কাল। এসময় কেউ বিগ্রহ দর্শন করতে পারে না (Rath Yatra)।
মোট ৯২ জন মহারণ, ৮১ জন ভোয়ি, ২২ জন কামার আর ২২ জন রূপকার মিলে রথ তৈরি করেন। রথের কাপড় মজবুত সিল্কের সুতো দিয়ে বোনা হয়। রথের আগের দিন সাজানো গোছানো রথ আনা হয় পুরীর শ্রী মন্দিরের সিংহ দুয়ারের সামনে। রথের দিন রথ প্রতিষ্ঠা পুজো করেন দেউল পুরোহিত। রথের আগের দিন অসুস্থতা পর্ব শেষ করে বিগ্রহদের পুনরায় নতুন করে স্থাপন করা হয়। নবকলেবরের সময় নতুন মূর্তি নির্মাণ করা হলেও এদিন কাঠের তৈরি মূর্তি নতুন করে রঙিন ভাবে আঁকা হয়। প্রথা মেনে নেত্রোৎসব বা চক্ষুদান হয়। নবরূপে সাজানো বিগ্রহ দর্শনকে বলা হয় নবযৌবন দর্শন। রথযাত্রার দিন মন্দিরের বাইরে রাজকীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর নাম পাহাণ্ডি (Rath Yatra)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1DpmwTbAnA/
নানান রকম বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিগ্রহদের রথে স্থাপন করা হয়। প্রথমেই বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রকে সুভদ্রা দেবীর রথে স্থাপন করা হয়। দেবী সুভদ্রাকে ধীর গতিতে অনুসরণ করেন বলরাম ও জগন্নাথ দেব। বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পুরীর রাজাকে বিগ্রহর রথে স্থাপনের কথা জানানো হয়। তিনি সোনার পালকিতে চেপে মন্দিরে আসেন। প্রথমে শ্রদ্ধা জানান তারপর সোনার ঝাঁটা দিয়ে ঝাঁট দেন। একে বলে ছেড়া পাঁহরা। পথে সুগন্ধী জল ও ফুল ছেটানো হয়। শুরু হয় রথযাত্রা (Rath Yatra)।






