কলকাতা

বিধাননগরে একই ওয়ার্ডে ১৪টি বেআইনি বহুতল! বিএলআরও-র কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

জানা গিয়েছে, এই বহুতলগুলির কোনোটি পাঁচতলা, আবার কোনোটি তিন বা চারতলার।

Truth of Bengal: বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের আবহে এবার বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। বিধাননগরের একই ওয়ার্ডে অন্তত ১৪টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা পড়েছে। জানা গিয়েছে, এই বহুতলগুলির কোনোটি পাঁচতলা, আবার কোনোটি তিন বা চারতলার। জলাভূমি ভরাট করে বেআইনিভাবে এই সমস্ত বহুতল গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই পুরনিগম আদালতে রিপোর্ট দিয়ে স্বীকার করে নিয়েছে যে, কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই অন্তত ১৫ থেকে ২০টি এমন বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছে।

এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট জমিগুলির চরিত্র নিয়ে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরে একটি বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ, যে জমিগুলির উপর এই বহুতলগুলি দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেগুলি সরকারি নথিতে ‘বাস্তু’ নাকি ‘জলাভূমি’ হিসেবে নথিভুক্ত আছে, তা বিএলআরও-কে স্পষ্ট করতে হবে। প্রসঙ্গত, গত বুধবার তপসিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরেই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শহর কলকাতার সমস্ত বেআইনি নির্মাণের বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার পার্শ্ববর্তী উপনগরী বিধাননগরে এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ নির্মাণের রিপোর্ট জমা পড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আদালতে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন সাবির আলী মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিধাননগর পুরনিগমের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আটঘরা মৌজায় যথেচ্ছ হারে শালী বা ডোবা জমি বেআইনিভাবে বুজিয়ে একের পর এক বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে। পুরনিগমের কোনো তোয়াক্কা না করেই বহুতলগুলি তৈরি করার পর সেখানে পুরোদমে বাণিজ্যিক কাজকর্মও শুরু হয়ে গিয়েছে। মামলাকারীর দাবি, এই অবৈধ ভবনগুলির কোনোটিতে ইতিমধ্যেই প্রসিদ্ধ বিরিয়ানি চেইনের শাখা খুলে গিয়েছে, আবার কোনোটিতে চলছে বড় হোটেল ও গাড়ির শোরুম। কিছু ভবন আবার আবাসন হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। হাইকোর্টের কড়া নজরদারির পর এবার এই সমস্ত বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Related Articles