দেশ

হাইকম্যান্ডের ‘পছন্দ’ বাদ, কর্মীদের চাপে কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন

১০ দিনের রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষ! বেণুগোপালকে হটিয়ে কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন

Truth of Bengal: নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর টানা দশ দিন ধরে চলা তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং জল্পনার অবসান ঘটল। রাহুল গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ক্ষমতাশালী নেতা কে সি বেণুগোপালকে পিছনে ফেলে কেরলমের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন ভি ডি সতীশন। বৃহস্পতিবার কেরল কংগ্রেসের এআইসিসি (AICC) ইন-চার্জ দীপা দাশমুন্সি এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। এর্নাকুলাম জেলার নর্থ পারাভুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী সতীশনের ওপরেই শেষ পর্যন্ত সিলমোহর দিল হাইকমান্ড।

দিল্লি বনাম নিচুতলা: চরম সংঘাত

ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই কেরলের মসনদ নিয়ে দিল্লির পছন্দের বেণুগোপাল এবং রাজ্যের জনপ্রিয় নেতা সতীশনের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। জট কাটাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রাজ্যের শীর্ষ ১০ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। আশ্চর্যজনকভাবে, সেই বৈঠকে ৭ জন নেতাই বেণুগোপালকে সমর্থনের কথা জানালেও, সতীশনের পক্ষে ছিলেন মাত্র ২ জন। কিন্তু আসল খেলাটা ঘুরিয়ে দেয় নিচুতলার কর্মীরা।

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ওয়ানড়ে বয়কটের হুমকি!

রাজ্যের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের সাফ দাবি ছিল, সতীশনের আগ্রাসী প্রচারের জেরেই রাজ্যে বাম সরকারকে হারানো সম্ভব হয়েছে। কেরলজুড়ে সতীশনের সমর্থনে পোস্টার ও ব্যানার পড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, কর্মীরা হুমকি দেন, বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে আগামী দিনে রাহুল গান্ধী বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ওয়ানড় কেন্দ্র থেকে জিততে দেওয়া হবে না। এই নজিরবিহীন চাপের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় এআইসিসি নেতৃত্ব।

দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ের বড় পুরস্কার

বিদায়ী বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম সরকারের দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বেকারত্ব নিয়ে লাগাতার আক্রমণ শানিয়েছিলেন সতীশন। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর এই লড়াইকেই কংগ্রেসের সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দীপা দাশমুন্সির এই ঘোষণার পর কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে স্বস্তির হাওয়া। নিচুতলার কর্মীদের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ড কেরলে সরকার গঠনের পথে এক বড় জটিলতা দূর করল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles