রাজ্যের খবর

মাধ্যমিকের আক্ষেপ মিটল উচ্চমাধ্যমিকে! ৪৯৬ পেয়ে রাজ্যে প্রথম নরেন্দ্রপুরের আদৃত

মাধ্যমিকের সেই ১ নম্বরের চোখের জল আজ আনন্দাশ্রু! উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হয়ে ইতিহাস গড়লেন আদৃত

Truth of Bengal: উচ্চমাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের পর থেকেই এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে একটিই নাম, আদৃত পাল। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের এই ছাত্র ৪৯৬ নম্বর পেয়ে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। কিন্তু এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক পুরোনো জেদ আর আক্ষেপের গল্প।

মিটল মাধ্যমিকের দুঃখ

আজ প্রথম স্থান পেলেও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় মাত্র ১ নম্বরের জন্য মেধাতালিকায় (Top 10) ঠাঁই পাননি আদৃত। সেই খারাপ লাগা আর আক্ষেপ তাঁকে তাড়িয়ে বেরাত। ফলপ্রকাশের পর আদৃত নিজেই হাসিমুখে জানালেন, “ভাল ফল করার আশা তো অবশ্যই ছিল, কিন্তু একেবারে প্রথম হয়ে যাব সেটা ভাবিনি। মাধ্যমিকে অল্পের জন্য র‍্যাঙ্ক করতে না পারার যে দুঃখটা মনের ভেতর ছিল, আজ সেটা পুরোপুরি কেটে গেল।”

দিনে মাত্র ৬ ঘণ্টা পড়াশোনা ও নরেন্দ্রপুরের দাপট

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আদৃত সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকার ঘোর বিরোধী। তিনি দিনে গড়ে মাত্র ৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। এই অসাধারণ সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব তিনি নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ, স্কুলের শিক্ষক এবং নিজের পরিবারকে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এবার উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় থাকা মোট ৬৪ জনের মধ্যে ১৮ জনই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র, যার শীর্ষে রয়েছেন আদৃত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রসনাতৃপ্তি

ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে চান আদৃত। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আইজার’ (IISER)-এ সুযোগ পাওয়া এবং মহাকাশ বা মৌলিক বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করা। আদৃতের বাবা জীবনকৃষ্ণ পাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা ওর ওপর কোনও চাপ তৈরি করব না। ও নিজের ইচ্ছেমতো এগিয়ে যাক।” অন্যদিকে আদৃতের দাদুও নাতির সাফল্যে আবেগপ্রবণ।

পড়াশোনায় ক্ষুরধার হলেও আদৃত কিন্তু দারুণ খাদ্যরসিক। নতুন কোনও খাবারের সন্ধান পেলেই চেখে দেখতে ভালবাসেন বাংলার এই নতুন টপার। আদৃতের এই জয়যাত্রা আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।