২৪ ঘণ্টার মধ্যে মমতার দেওয়া পদ প্রত্যাখ্যান! দল ছেড়ে শুভেন্দু-দিলীপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রদীপ
মঙ্গলবার পদ দিলেন মমতা, বুধবারই দল ছাড়লেন প্রদীপ! অফিস থেকে ছুড়ে ফেললেন দিদি-অভিষেকের ছবি!
Truth of Bengal: চতুর্দিক থেকে ভাঙন যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেসের। এবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলে ঘটল এক চরম নাটকীয় ও নজিরবিহীন ঘটনা। মঙ্গলবারই খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভাঙন রুখতে প্রদীপ সরকারকে (Pradip Sarkar) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পদ পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায়, বুধবারই নতুন পদ নিতে সাফ অস্বীকার করে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। শুধু দলত্যাগই নয়, খড়গপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় নিজের কার্যালয় থেকে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি সটান সরিয়ে দেন তিনি।
রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমাকে চিঠি, কিন্তু আসল ক্ষোভ অভিষেকের ওপর
এদিন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে প্রদীপ সরকার উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন। তবে চিঠিতে ‘ব্যক্তিগত’ কারণের কথা বললেও, সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
প্রদীপবাবু সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “আমাকে গত ২০২২ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অন্যায়ভাবে খড়গপুরের পুরপ্রধান (Chairman) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই নোংরা রাজনীতির বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতেনই না। আমি বারবার জানতে চাইলেও দল আজ পর্যন্ত আমাকে সরানোর কোনও কারণ জানায়নি। দলে একটা বড় অংশ অন্তর্ঘাত করে চলেছে, তাই এভাবে মুখ বুজে থেকে আর কী লাভ?”
“মমতা নন, জুন মালিয়াই আমার নেত্রী!”
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদীপ সরকার এক নজিরবিহীন দাবি করে বসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, মেদিনীপুরের বর্তমান সাংসদ জুন মালিয়াই (June Malia) এখন তাঁর একমাত্র নেত্রী। প্রদীপের কথায়, “দল ছাড়ার ব্যাপারে জুন মালিয়ার সঙ্গে আমার দীর্ঘ কথা হয়েছে। উনিই আমার নেত্রী।”
যদিও প্রদীপ সরকারের এই আকস্মিক দলবদল ও ক্ষোভ নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদ্য মনোনীত সভাপতি অজিত মাইতি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শুভেন্দু-দিলীপের নেতৃত্বে উন্নয়নে শামিল হওয়ার ইঙ্গিত
আগামীদিনে তিনি কোন দলে যোগ দেবেন তা খোলসা না করলেও, প্রদীপ সরকারের কথাতেই স্পষ্ট তিনি গেরুয়া শিবিরের দিকেই পা বাড়িয়ে রেখেছেন। এদিন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং খড়গপুর শহরের বিধায়ক তথা রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
প্রদীপ সরকার স্পষ্ট জানান, “তৃণমূল ছেড়ে দিলেও আমি রাজনীতিতেই থাকব এবং আপাতত কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করব। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়গপুরে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে যে জোয়ার এসেছে, সেই উন্নয়নে আমি শামিল হতে চাই।”





