রাজ্যের খবর

মহারাষ্ট্র-ইউপির আদলে এবার বাংলাতেও ‘ATS’! জঙ্গিদমনে বিরাট উদ্যোগ নবান্নের

বাংলাদেশে তৈরি ছক এবার ব্যর্থ করবে বাংলা! আইজি পদমর্যাদার নেতৃত্বে তৈরি হচ্ছে বিরাট স্পেশাল টিম

Truth of Bengal: রাজ্যে জঙ্গি কার্যকলাপ নির্মূল করতে এবং নাশকতার ছক বানচাল করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও দিল্লি পুলিশের আদলে এবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশেও গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড’ (Anti Terrorist Squad) বা এটিএস। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই নতুন দফতর গঠনের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে নবান্ন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে জঙ্গি দমনে রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের পৃথক দুটি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সক্রিয় রয়েছে। নতুন ভাবনায়, এই দুই পৃথক এসটিএফকে এক ছাতার তলায় এনে একটি শক্তিশালী এটিএস গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে ধরা পড়েছে জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB), আইএস, আকিস এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গি সংগঠনগুলি তাদের মডিউল সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নেপথ্যে প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। শুধু নাশকতার ছকই নয়, রাজ্যের ভিভিআইপিদের টার্গেট করা এবং সোশাল মিডিয়া বা খারিজি মাদ্রাসাকে ব্যবহার করে তরুণদের মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে জঙ্গি দলে ভেড়ানোর কাজ চালাচ্ছে তারা।

গোয়েন্দাদের মতে, এই স্লিপার সেল ও জঙ্গি মডিউলগুলির ওপর দিনরাত কড়া নজরদারি চালাতে একটি বিশেষীকৃত বাহিনীর প্রয়োজন ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই এই এটিএস গঠনের সিদ্ধান্ত। যে পুলিশ আধিকারিকরা এতদিন জঙ্গি দমনে বিশেষ দক্ষতা দেখিয়েছেন, তাঁদেরই এই নতুন সংস্থায় নিয়ে আসা হবে।

প্রস্তাবিত এটিএসের শীর্ষপদে থাকবেন একজন আইজি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক। তাঁর অধীনে কাজ করবেন ডিআইজি, এসপি এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ আধিকারিকেরা। এটিএসের মূল সদর দপ্তর কলকাতা বা তার আশপাশের এলাকায় হলেও, রাজ্যের যে সমস্ত জেলায় অতীতে জঙ্গি মডিউলের হদিশ মিলেছে, যেমন মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদহ, বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা, সেখানে খোলা হবে শাখা দফতর। সীমান্ত পেরিয়ে নতুন জঙ্গি নেতাদের অনুপ্রবেশ আটকানো, মগজধোলাই বন্ধ করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যর্থ করাই হবে এই শাখাগুলির প্রধান কাজ।

Related Articles