রাজ্যের খবর

দিয়েছিলেন মমতা, পালাবদলের বাংলায় সিঙ্গুর বাজার থেকে মুছল তাপসী মালিকের নাম

সিঙ্গুরে নীল-সাদা বোর্ড সরতেই কান্না ভেজা গলায় কী বললেন তাপসী মালিকের বাবা?

Truth of Bengal: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের হাওয়া। এবার সেই পরিবর্তনের চরম প্রভাব পড়ল ঐতিহাসিক জমি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু সিঙ্গুরে। তৃণমূল সরকারের আমলে নির্মিত ও খোদ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামকরণ করা ‘তাপসী মালিক কৃষক বাজার’-এর নাম বদলে দিল বর্তমান বিজেপি সরকার। নীল-সাদা রঙের পুরনো নামফলকটি রাতারাতি খুলে ফেলে সেখানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে লাল-সাদা হরফে লেখা নতুন বোর্ড, যাতে লেখা রয়েছে ‘সিঙ্গুর কৃষক বাজার’। এই নামবদলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে গোটা হুগলি জেলা জুড়ে।

উল্লেখ্য, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। টাটারা কারখানা গুটিয়ে বাংলা ছাড়ার পর, সেই আন্দোলনের ভিত্তিভূমিতেই তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জনসমর্থন নিয়ে মহাকরণে ক্ষমতায় আসে। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কৃষকদের অধিগৃহীত জমি ফিরিয়ে দেয় নতুন সরকার। সেই সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ‘শহিদ’ তাপসী মালিকের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ২০১৪ সালে এই কৃষি মান্ডির নামকরণ তাপসী মালিকের নামে করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

হঠাৎ করে সেই ঐতিহ্যবাহী নাম সরাতেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শাসক দলের অভিযোগ, বিজেপি সরকার মৃত শহিদ তাপসী মালিকের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও অহেতুক রাজনীতি করছে। অন্যদিকে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরূপকুমার দাস পাল্টা সাফাই দিয়ে দাবি করেছেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়, আগামী দিনেও হবে। এই নাম পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় সিঙ্গুরের মানুষের কোনো আপত্তি নেই।” এর পাশাপাশি তিনি চরম কটাক্ষ করে আরও বলেন, “সিঙ্গুর আন্দোলনের কারণে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে বিত্তবান হয়েছিল, কিন্তু সিঙ্গুরের সাধারণ মানুষ দিনে দিনে গরিব হয়েছে। সিঙ্গুরের চরম অবনমন ঘটেছিল ওই আন্দোলনের ফলে, তাই এলাকার মানুষ নিজেই এই পরিবর্তন মেনে নিয়েছে।”

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে চরম ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছেন নিহত তাপসী মালিকের বাবা মনোরঞ্জন মালিক। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি হতাশার সঙ্গে জানান, “তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই নামটি এভাবে বদলে ফেলা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় আমার মনের গভীরে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে।” সব মিলিয়ে, সিঙ্গুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষক বাজারের নামবদল এখন বঙ্গ রাজনীতির এক নতুন উত্তপ্ত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles