রাজ্যের খবর

Pati Durga: ৩০০ বছরের রহস্য! হুগলির এই দুর্গা পুজোয় থাকেন না লক্ষ্মী, গণেশ, অসুর

এখানে কুমারী পুজো হয় না। বহু বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে পতিদুর্গার।

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: হুগলির ধনিয়াখালির ছোট্ট গ্রাম পলাশি। এই গ্রামেই প্রায় ৩০০ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে পতি দুর্গার। এই পুজোয় থাকেনা লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী ও অসুর। দেবীর দশ হাতের বদলে থাকে দু’হাত। দুর্গার ডান পাশে থাকেন মহাদেব। তার পায়ের নিচেই থাকে ষাঁড়। দুর্গার পায়ের নিচে থাকে সিংহ। দেবীর বাঁদিকে থাকে জয়া আর ডানদিকে থাকে বিজয়া। এখানে কুমারী পুজো হয় না। বহু বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে পতিদুর্গার। সকাল সন্ধ্যা হয় মায়ের নিত্য সেবা। তবে এখানে দেবী কোন ব্রাহ্মণদের হাতে পুজো নেন না। পন্ডিত পরিবারের আগে পদবী ছিল রায়, পরবর্তীতে তা হয় পণ্ডিত। বর্তমানে পণ্ডিত পরিবারের সদস্য উত্তম কুমার পণ্ডিত তিনি নিজেই দুর্গা পুজো করেন। কথিত আছে, পুজোর পুরোহিত উত্তমবাবুর ঠাকুরদাদার পিসিমা তিনি স্বপ্নাদেশে এই ঠাকুর পান। তিনি ছিলেন দরিদ্র বৃদ্ধা। তার সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ভিক্ষা করতেন। এমন একদিনে তিনি শুকনো ঘিয়া নদী পেরিয়ে ভিক্ষা করতে যান। ফিরে এসে দেখেন নদীর ভর্তি জল। তখন তিনি কিভাবে বাড়ি ফিরবেন তা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না। নদীর পারে বেল গাছের তলায় বসে ঈশ্বরের প্রার্থনা করতে থাকেন। ঠিক তখনই তাল গাছের ডোঙ্গা ভেসে আসে তার কাছে, এক নারীর রূপ ধরে আসে এক দেবী। বৃদ্ধাকে নদী পার করিয়ে দিয়ে তার বাড়ি আসতে চান। বৃদ্ধার সাথে কিছুটা পথ এগিয়ে আসতেই বৃদ্ধা আর ওই নারীকে দেখতে পান না। ওই রাতেই তিনি স্বপ্নাদেশ পান দেবীর (Pati Durga)।

আরও পড়ুনঃ জমা জলে দাঁড়িয়ে দোকানের শাটার খুলতে গিয়ে বিপত্তি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বৃদ্ধের

ঘিয়া নদীর পারে রয়েছে দেবীর মূর্তি সেখান থেকে তুলে নিয়ে এসে তাকে পুজো করতে বলেন। কিন্তু ওই বৃদ্ধা ভেবেছিলেন আমি নিজে অন্ন জোগাতে পারিনা, দেবীর অন্ন কিভাবে জোগাবো। ঠিক তখনই স্বপ্না দেশ দিয়ে দেবী জানান তোমার যা জুটবে আমাকে তাই দিয়েই পুজো দিও এবং তালপাতার ছাউনিতেই আমাকে রেখে পুজো করো। তবে এই পুজো কোন ব্রাহ্মণ করতে পারবে না ।এই পরিবারের পুরুষ সদস্যই আমার পুজো করবে। তখন থেকেই চলে আসছে এই প্রথা।
একসময় পলাশির এই এলাকায় কোনো বসতি ছিল না।বর্তমানে রাস্তাঘাট তৈরি হয়ে বসতি গড়ে উঠেছে। দুর্গাপুজোর প্রচুর ভক্তের সমাগম ঘটে মন্দিরে। এছাড়া মায়ের নিত্যদিনের পুজোয় দূরদূরান্ত থেকে আসে ভক্তরা। ভক্তদের দেওয়া দানেই তৈরি হয়েছে দেবীর মন্দির। অষ্টমীর সন্ধি পুজো ও নবমীতে পশু বলি প্রথা রয়েছে। সেই বলিও করেন পণ্ডিত পরিবারের সদস্য উত্তমবাবু। ভক্তদের দেওয়া জিনিসেই দেবীর নৈবেদ্য দেওয়া হয়। প্রথমে এই মূর্তি ছিল পাথরের পরবর্তীতে তা মাটির মূর্তি করা হয়। ১৫ জ্যৈষ্ঠ ধুমধাম করে হয় অন্নকূট উৎসব। শুধুমাত্র সেই সময় ব্রাহ্মণ দিয়ে পুজো করানো হয়। বা ওই পরিবারের কেউ মারা গেলে তখন ব্রাহ্মণ দিয়ে পুজো করা হয়। বর্তমানে পণ্ডিত পরিবারের চার সেবাইত মিলে এই পুজো করেন। এখন লক্ষণ পন্ডিতের পালা চলছে (Pati Durga)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/

পুজোর পুরোহিত উত্তম পন্ডিত বলেন, স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু হয়েছিল মায়ের পুজো। এই পুজোয় আমাদের কোন পয়সা লাগে না। ভক্তদের দেওয়া দানেই হয় মায়ের পুজো। দুর্গাপুজোর দিন ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী খুব ধুমধাম করে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধুমধাম করেও পুজোর আয়োজন হয়। তখন অনেক ভক্তের ভিড় হয়। মাকেও অনেকে ছুঁয়ে দেন। তখন পঞ্চগব্য করতে হয় সেই সময় আমরা বামন দিয়ে পুজো করায়। জল, তুলসি আর মনের ভক্তিতেই হয় মায়ের পুজো। তবে এখানে মায়ের বিসর্জন হয় না।ওই পরিবারের গৃহবধূ ঝরনা পণ্ডিত বলেন, আগে আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এখন সেই অভাব দূর হয়েছে। আগে মায়ের মূর্তি ছিল পাথরের এখন মাটির মূর্তি মন্দিরে প্রচুর ভক্ত আসে। তারা যে যেমন ভাবে দেন সেই ভাবেই মায়ের পুজো হয়। এখানে দুবেলা মায়ের নিত্য পুজো হয়। ভক্তি ভরে মায়ের কাছে মানসিক করলে মা ভক্তদের মনস্কামনা পূরণ করেন (Pati Durga)।

Related Articles