‘স্টুডেন্টস ডে’-তে ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর, তুলে ধরলেন রাজ্য সরকারের সাফল্যের খতিয়ান
দেশগঠনে ছাত্রছাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্রজীবন জীবনের অন্যতম সেরা ও অমূল্য সময়।
Truth Of Bengal: ‘স্টুডেন্টস ডে’ ও ‘স্টুডেন্টস উইক’-এর সূচনা উপলক্ষে রাজ্যের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জানুয়ারিকে ‘স্টুডেন্টস ডে’ এবং বছরের প্রথম সপ্তাহকে ‘স্টুডেন্টস উইক’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। দেশগঠনে ছাত্রছাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্রজীবন জীবনের অন্যতম সেরা ও অমূল্য সময়।

সেই সময়কে সার্থক করে তুলতেই রাজ্য সরকার একাধিক শিক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে। কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, ঐক্যশ্রী, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ, শিক্ষাশ্রী, মেধাশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিন্স, তরুণের স্বপ্ন, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিনামূল্যে বই, ড্রেস, জুতো ও ব্যাগ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যা আজ সারা দেশের মডেল বলে উল্লেখ করেন তিনি।রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সমস্ত প্রকল্পে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা মিলিয়ে ২৭.৪৬ কোটিরও বেশি সুবিধা পেয়েছে।
রাজ্যের সকল ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানাই ‘স্টুডেন্টস ডে’ তথা আজ ‘স্টুডেন্টস উইক’-এর সূচনার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
২০২২ সাল থেকে বছরের এই প্রথম দিনটিকে আমরা ‘স্টুডেন্টস ডে’ হিসেবে এবং বছরের প্রথম সপ্তাহকে ‘স্টুডেন্টস উইক’ হিসেবে পালন করছি । এইভাবে বছরের…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 1, 2026
এ জন্য রাজ্য সরকার প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এছাড়াও শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।২০১১ সালের পর রাজ্যে হাজারেরও বেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং কলেজ ও বি-এড কলেজ গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ৭ হাজারেরও বেশি নতুন স্কুল ও ২ লক্ষের বেশি অতিরিক্ত শ্রেণীকক্ষ। রাজ্যে ৩৮২টি সাঁওতালি মাধ্যম স্কুল, ২০০টি রাজবংশী ও কামতাপুরী মাধ্যম স্কুল এবং হাজারেরও বেশি ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, ওড়িয়া ও তেলুগু মাধ্যম স্কুল চালু হয়েছে। সমস্ত স্কুলে পানীয় জল, শৌচাগার এবং ১০০ শতাংশ মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার এক্স হ্যান্ডেলে আরও জানিয়েছেন, এই উদ্যোগগুলির ফলেই ২০২৩ সাল থেকে রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে কোনও স্কুলছুট নেই, যা রাজ্যের বড় সাফল্য। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা , মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্নাতক স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে চালু হয়েছে সেন্ট্রালাইজড অ্যাডমিশন পোর্টাল। বার্তার শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে সরকার আগেও কাজ করেছে, এখনও করছে এবং আগামীদিনেও প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকবে।





