মালদহে হদিশ মিলল ‘লক্ষ্মী’ ছেলের, একটানা ৫ বছর ছাত্রের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে টাকা
প্রশাসনের তরফে নথিপত্র যাচাইয়ের পর তাঁকে যোগ্য উপভোক্তা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়
Truth of Bengal: মালদহে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। একবার বা দু’বার নয়, টানা পাঁচ বছর ধরে এক মহিলার নামে বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে এক কলেজ ছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। অভিযোগ, সেই টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নিয়মিত খরচও করতেন ওই ছাত্র। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনাটি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার। হরদমনগরের বাসিন্দা মিতালি দাসের দাবি, তিনি ২০২১ সালে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। প্রশাসনের তরফে নথিপত্র যাচাইয়ের পর তাঁকে যোগ্য উপভোক্তা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। কিন্তু তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কখনও প্রকল্পের টাকা ঢোকেনি।
সম্প্রতি রাজ্যে সরকার বদলের পর বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেন মিতালি। তখনই তিনি জানতে পারেন, গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা ঢুকছে পাশের বেলশুর গ্রামের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া মোবারক হোসেনের অ্যাকাউন্টে। এরপরই তিনি বিডিও অফিসে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। মিতালি দাস জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন তিনি ভিনরাজ্যে থাকতেন। সেই কারণে কেন তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না, তা বুঝতে পারেননি। এবার ভোট দিতে বাড়ি ফিরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর বৃহস্পতিবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারিণী।
অন্যদিকে অভিযোগ সামনে আসতেই বিপাকে পড়েছেন ওই কলেজ ছাত্র। মোবারক হোসেনের দাবি, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। এখন ঘটনা জানার পর তিনি সমস্ত টাকা প্রশাসনকে ফেরত দিতে চান বলে জানিয়েছেন। তবে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং তাঁকে খুঁজছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু একজনের ভুল নয়, এর পিছনে বড়সড় চক্র কাজ করে থাকতে পারে। কীভাবে এক উপভোক্তার নামে বরাদ্দ টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে বছরের পর বছর গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলেও। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।






