রাজ্যের খবর

প্রথম দফায় উত্তপ্ত লাভপুর, বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের মাথা ফাটাল দুষ্কৃতীরা

বিজেপির দাবি, শাসকদল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে

Truth of Bengal: প্রথম দফার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের লাভপুর। নির্বাচনী এজেন্টকে মারধর ও মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সাঁইথিয়া থানার ভ্রমরকোল গ্রামে। লাভপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার নির্বাচনী এজেন্ট তথা বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মণ্ডল এই হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিজেপির দাবি, শাসকদল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে, যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

আক্রান্ত বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বয়ান অনুযায়ী, বুথ দখলের খবর পেয়ে তিনি প্রার্থীর ছেলে দেবরূপ ওঝা ও আরও একজনকে নিয়ে ভ্রমরকোল গ্রামে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বুথ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে একদল যুবক তাঁদের ঘিরে ফেলে। সেখানে তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় এবং মাথায় ইঁট দিয়ে আঘাত করা হলে বিশ্বজিৎবাবুর মাথা ফেটে যায়। তাঁর আরও অভিযোগ যে, বাকি সঙ্গীদের তৃণমূল কর্মীরা তুলে নিয়ে গিয়েছে। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগসূত্র নেই।

লাভপুর ছাড়াও রাজ্যের আরও কিছু এলাকায় প্রথম দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের নওদা ও ডোমকলেও উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে, যার জেরে রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন হুমায়ুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে প্রশাসনকে।

এতসব ঘটনার পরেও নির্বাচন কমিশন ও সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের দাবি, মোটের উপর প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে কমিশন একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। কিছু জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও রাজ্যে ভোটের হারের গ্রাফ বেশ ঊর্ধ্বমুখী। কমিশন সূত্রের খবর, যেখানেই অশান্তির খবর এসেছে সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বড় কোনও নাশকতার খবর এখনও পর্যন্ত নেই। তবে বীরভূম ও কুমারগঞ্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

Related Articles