চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম নিরাপত্তায় জোর, থাকছে না কাগজের টিকিট
স্টেডিয়ামে প্রবেশ ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে বড় বদল। এবার একাধিক স্তরে দর্শকদের যাচাই করা হবে।
Truth Of Bengal: গত বছরের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিজয় মিছিল ঘিরে ভিড়ের চাপে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ জন। সেই ঘটনার পর এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। ২০২৬ আইপিএল মরশুমের আগে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে চালু করা হল একগুচ্ছ নতুন নিয়ম, যার লক্ষ্য— ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জালিয়াতি রোধ এবং দর্শকদের জন্য আরও নিরাপদ অভিজ্ঞতা তৈরি করা।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন টিকিট ব্যবস্থায়। এবার আর কোনও কাগজের টিকিট থাকবে না। পুরোপুরি মোবাইল-ভিত্তিক কিউআর কোড টিকিট চালু করা হয়েছে। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে এই কোড সক্রিয় হবে, ফলে আগাম বিক্রি বা কালোবাজারি অনেকটাই আটকানো যাবে। প্রতিটি টিকিট নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকবে, ফলে অন্য কাউকে দেওয়ার সুযোগ নেই। বেআইনি টিকিট বিক্রির বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
স্টেডিয়ামে প্রবেশ ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে বড় বদল। এবার একাধিক স্তরে দর্শকদের যাচাই করা হবে। প্রথমে কিউআর কোড পরীক্ষা, তারপর নির্দিষ্ট অপেক্ষা এলাকায় রাখা, এবং শেষে ধাপে ধাপে গ্যালারিতে প্রবেশ— এই নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ভিড়ের চাপ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে হুড়োহুড়ি এড়ানো যায়।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যাঁরা গাড়ি আনবেন, তাঁদের আগে থেকে নির্দিষ্ট পার্কিং বুক করতে হবে এবং সেটি গাড়ির নম্বরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা থেকে শাটল বাসে করে দর্শকদের স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি টিকিটধারীদের জন্য মেট্রো পরিষেবা বিনামূল্যে রাখা হয়েছে, যাতে রাস্তায় ভিড় কমে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। বহুস্তরীয় তল্লাশি, কিউআর কোড নিয়ন্ত্রণ, পাঁচশোর বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ভিড় পর্যবেক্ষণ— সব মিলিয়ে গোটা এলাকা থাকবে কড়া নজরদারিতে। বৈধ টিকিট ছাড়া স্টেডিয়ামের আশপাশে ঘোরাফেরাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সবশেষে, জরুরি পরিস্থিতির জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। স্টেডিয়ামের চারপাশে অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা কেন্দ্র, স্পষ্ট নির্গমন পথ এবং ঘোষণার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক মহড়াও করা হয়েছে, যাতে কোনও বিপদের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সব মিলিয়ে, এবার শুধু ম্যাচ নয়— নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার এক নতুন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চলেছে দর্শকরা।




