রাজ্যের খবর

রাজ্যজুড়ে লাগাতার আন্দোলনের ডাক! ভেঙে চুরমার তৃণমূলের ভোট টানতে মরিয়া সিপিএম

তৃণমূলের ক্ষয়ের বাজারে শূন্যস্থান ভরাট করতে মরিয়া আলিমুদ্দিন!

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গে আদি তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে, তাতে রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরে এক বিরাট শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। আর এই আবহে এবার বঙ্গে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)। তৃণমূলের এই চরম রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে আমজনতার মনে বামপন্থার প্রতি আস্থা ফেরাতে এবার রাজ্যজুড়ে লাগাতার গণআন্দোলনের রূপরেখা প্রস্তুত করার কড়া নির্দেশ দিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ যাওয়া, একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী ২৩ ও ২৪ জুন পার্টির রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে।

‘শূন্যের গেরো’ কেটে চাঙ্গা আলিমুদ্দিন, বুথ পর্যালোচনায় বিস্ফোরক তথ্য!

পার্টি সূত্রে খবর, এবারের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের ‘শূন্যের গেরো’ কাটিয়ে বিধানসভায় খাতা খুলতে পেরেছে বামেরা। জোটের শরিক দলও একটি আসনে জয়লাভ করেছে। আগামিদিনে এই জয়ের সংখ্যা ও পরিধি বহুগুণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই বুথভিত্তিক সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি জেলা কমিটি নিজেদের বুথ স্তরের পর্যালোচনা রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেছে, যা আগামী ২৩ জুনের বৈঠকে জমা দেওয়া হবে।

রাজ্য কমিটির এক প্রভাবশালী সদস্য দাবি করেছেন, বুথভিত্তিক পর্যালোচনায় বেশ কিছু চমকপ্রদ রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে এসেছে। বিজেপি দাবি করছে যে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত হিন্দু ভোট তাদের ঝুলিতে গিয়েছে, কিন্তু লাল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা বলছে এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও মফস্বলের বর্ধিষ্ণু হিন্দু ভোটারদের একটি বিশাল অংশ বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দিয়েছেন, যার একটি বড় অংশ তৃণমূল পেলেও কিছু অংশ সিপিএম-এর ঝুলিতেও এসেছে। এখন যেহেতু তৃণমূল ক্ষয়িষ্ণু এবং তাদের সাংসদ-বিধায়করা দল ছাড়ছেন, তাই এই হিন্দু ভোটব্যাঙ্কের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটকে পুনরায় কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকের দিকে ফিরিয়ে আনাই এখন বামেদের পাখির চোখ।

শুধু বিবৃতি নয়, যুব সমাজকে হাতিয়ার করে রাস্তার লড়াই

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গেলেও এখনও রাজ্যের বহু বুথে বামেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়ে গিয়েছে। তাই এবারের রাজ্য কমিটির বৈঠকে শাখা স্তরের সংগঠনকে ঢেলে সাজানো এবং নিষ্ক্রিয় কর্মীদের পুনরায় সক্রিয় করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

সিপিএম নেতৃত্বের সাফ কথা, কেবল সোশ্যাল মিডিয়া বা খবরের কাগজে বিবৃতি দিয়ে গণআন্দোলন সম্ভব নয়। হকার উচ্ছেদ, বেকারত্ব, কৃষকের ফসলের নায্য দাম, শ্রমিকদের অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো বুনিয়াদি ইস্যু নিয়ে সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে হবে। এর পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মকে বামপন্থী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত করতে ছাত্র ও যুব আন্দোলনকে আরও আগ্রাসী করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। ছাব্বিশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আলিমুদ্দিনের এই ‘রোডম্যাপ’ রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles