আবহাওয়ায় বড় বদল! বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, প্রাক-মরশুম এই বৃষ্টির জেরে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার দাপট বজায় থাকবে।
Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে এখন প্রাক-বর্ষার দাপট। দিনভর মেঘলা আকাশ আর গুমোট গরমের পর বিকেলের দিকে আচমকা তুমুল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। তবে আবহাওয়া দফতর সুখবর দিয়ে জানিয়েছে, বাতাসে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ এবং পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় আগামী কয়েকদিনে বর্ষার বিস্তার আরও দ্রুত হবে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ইতিমধ্যেই দেশের বেশ কিছু অংশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও মৌসম ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৌসুমী বায়ু পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরামের সর্বত্র এবং ত্রিপুরা, অসম ও অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশে বর্ষা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকাতেও বর্ষা পা রাখার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, প্রাক-মরশুম এই বৃষ্টির জেরে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার দাপট বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে সোমবার এবং মঙ্গলবার বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে নদিয়া, বীরভূম, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান এবং দুই ২৪ পরগনায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। সপ্তাহের শেষে অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে মূলত ঝড়-বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টি চলতেই রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, আগামী শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার—এই ওপরের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির জেরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই বজ্রপাতের আশঙ্কার সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
এদিকে কলকাতার আবহাওয়াও রবিবার থেকে বেশ আর্দ্র ও মেঘলা।মঙ্গলবার কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। অন্যদিকে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা নিচে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশে পৌঁছনোর কারণে দিনভর অস্বস্তিকর গুমোট গরম অনুভূত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরে ২২.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে কলকাতায় বিকেলের দিকে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহবিদরা।






