ডিম-থেরাপির ভয় নাকি পদের লোভ! এই ৩টি শর্ত মিললেই আজই পদ্মবনে যোগ তৃণমূল সাংসদদের
সংসদেও ঘাসফুল শিবিরে মহাপ্রলয়! দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ১১ তৃণমূল সাংসদ
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হতেই তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে আদি তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলায় দলের নেতা-মন্ত্রীদের যেখানে ‘ডিম থেরাপি’ তথা আমজনতার ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে, সেখানে এবার দেশের রাজধানী দিল্লিতেও ঘাসফুল শিবিরের কফিনে শেষ পেরেকটি পড়তে চলেছে। পরিষদীয় দল ভাঙার পর এবার সংসদীয় দলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সোমবার দুপুরে দিল্লির বুকে শুরু হয়েছে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক নাটক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলায় বিজেপির অন্যতম পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের (Bhupender Yadav) বাসভবনে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর সবথেকে বড় চমক হল, সেই বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অন্তত ১১ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদ!
বিজেপির দুয়ারে পা রাখার আগে ৩টি বিস্ফোরক শর্ত!
রাজনৈতিক মহলের খবর, শুধু এই ১১ জনই নন, পদ্মবনে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন আরও বহু তৃণমূল সাংসদ। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আখের গুছিয়ে নিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে মূলত ৩টি প্রধান শর্ত বা প্রতিশ্রুতি দাবি করছেন এই দলত্যাগী সাংসদরা।
প্রথম শর্ত (২০২৯-এর টিকিট নিশ্চিতকরণ): বিদ্রোহী সাংসদদের প্রধান ও প্রথম দাবি হল, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁদের বর্তমান কেন্দ্র থেকেই বিজেপির টিকিটে লড়াইয়ের ১০০% গ্যারান্টি দিতে হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে।
দ্বিতীয় শর্ত (হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা): বাংলায় ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূলের চেনা ‘বাঘে-গরুকে একঘাটে জল খাওয়ানো’ দাপট উধাও। রাজ্যে পা রাখলেই ক্ষুব্ধ জনতার পচা ডিমের অভ্যর্থনা আর তৃণমূল ছাড়লে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা প্রত্যাহার, এই দুইয়ের জোড়া ফলায় বিদ্ধ সাংসদরা বিজেপির কাছে উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা (Central Security) প্রার্থনা করেছেন।
তৃতীয় শর্ত (দিল্লি দরবারে বড় পদ): তৃণমূলের এই প্রভাবশালী সাংসদরা শুধু টিকিট আর নিরাপত্তাতেই সন্তুষ্ট নন। বিজেপি যোগের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তাঁরা কেন্দ্রের বড়ো কোনও সরকারি কমিশন বা সংস্থার চেয়ারম্যান পদের মতো আকর্ষণীয় পদ দাবি করেছেন।
শুভেন্দু-বিপ্লব দেবের উপস্থিতিতেই চূড়ান্ত হচ্ছে চিত্রনাট্য
উল্লেখ্য, সোমবার সকালেই দিল্লিতে এক অভিজাত পাঁচতারা হোটেলে গোপন বৈঠক সেরেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসীত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের ও সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো ২১ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ। আর সেই বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই ১১ জন সাংসদকে নিয়ে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিপ্লব দেবের মতো হেভিওয়েট বিজেপি নেতারা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ৩ শর্তে দিল্লির সবুজ সংকেত মিললেই আজ মাঝরাতেই দিল্লিতে ঘটে যাবে ছাব্বিশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পালাবদল।


