সিআইডি-র তলব এড়াতে এবার সোজা দিল্লির ‘বাহানা’! সই কাণ্ডে ভবানী ভবনকে চিঠি দিলেন অভিষেক
গ্রেপ্তারির ভয়েই কি তড়িঘড়ি দিল্লি পলায়ন? হাইকোর্টে রক্ষাকবচ খারিজ হতেই চরম বিপাকে অভিষেক!
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক আইনি জটিলতায় জেরবার বিদায়ী শাসকদল আদি তৃণমূল কংগ্রেস। এবার দলীয় বিধায়কদের সই জালিয়াতির (Signature Scam) অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলায় সিআইডি (CID)-র দ্বিতীয় বারের তলবও এড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার সশরীরে কলকাতার ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ থাকলেও, সিআইডি গোয়েন্দাদের চিঠি পাঠিয়ে হাজিরা এড়ালেন তিনি। বর্তমানে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে অবস্থান করছেন অভিষেক। আর সেই দিল্লি সফরের কারণ দর্শিয়েই এবার গোয়েন্দাদের কাছ থেকে বাড়তি সময় চেয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষনেতা।
বিদ্রোহী বিধায়কদের এফআইআর এবং সিআইডি-র সাঁড়াশি চাপ
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের যে স্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে ব্যাপক গরমিল ও জালিয়াতি ধরা পড়ে। এরপরই দলের দুই হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার সচিব একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়ের করেন।
এই জালিয়াতির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে সিআইডি তদন্তে নামে এবং একাধিক বিধায়ককে নোটিস ধরায়। এরই সূত্র ধরে গত ৩০ মে নোটিস পাঠিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ৩০ মে সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে আমজনতার ব্যাপক ক্ষোভ ও জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক। পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ১ জুন সিআইডি-র প্রথম হাজিরা এড়ান তিনি এবং ভবানী ভবনে যাওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় চান। তবে সিআইডি তাঁকে মাত্র ৭ দিন সময় দিয়ে আজ, সোমবার হাজিরার চূড়ান্ত ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল।
হাইকোর্টে রক্ষাকবচ খারিজ, ১০ জুনের দিকে তাকিয়ে কালীঘাট
সই-কাণ্ডে সিআইডি যাতে তাঁকে কোনওভাবেই গ্রেফতার বা কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করতে না পারে, তার জন্য গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের এজলাসে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও, আদালত তা খারিজ করে দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ১০ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই অবস্থান অভিষেকের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার সিআইডি-কে দেওয়া চিঠিতে অভিষেক একদিকে যেমন নিজের দিল্লি সফরের কথা উল্লেখ করেছেন, ঠিক তেমনই হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলার প্রসঙ্গটিও টেনে এনেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সই জালিয়াতির মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে অভিষেক যেভাবে বারবার হাজিরা এড়াচ্ছেন, তাতে আদালতের পরবর্তী শুনানিতে তাঁর ওপর আইনি খাঁড়া নেমে আসার সম্ভাবনা প্রবল।






