চায়ের দোকানে ৩৫টি আধার-এটিএম কার্ড! নামখানায় চোখ কপালে পুলিশের
এ তো চায়ের দোকান নয়, যেন ব্যাঙ্কের শাখা! ৩৮টি LIC বন্ডের রহস্যভেদে তদন্তে নামল পুলিশ
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের বুকে এবার এক চরম রহস্যময় নথিপত্র কেলেঙ্কারির হদিস মিলল, যা দেখে খোদ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদেরও চোখ কপালে উঠেছে। কোথাও চায়ের দোকান থেকে মিলছে থরে থরে সাজানো এটিএম (ATM) ও আধার কার্ড, আবার কোথাও খোদ শাসকদলের পার্টি অফিসের ভেতর থেকে উদ্ধার হচ্ছে বস্তা বস্তা সরকারি নথি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা থেকে শুরু করে কলকাতার ট্যাংরা এবং উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের এই তিন প্রান্তে আধার ও ভোটার কার্ড সংক্রান্ত একাধিক জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
নামখানার চায়ের দোকানে ‘নথির খনি’!
সবচেয়ে বড়ো চমকটি মিলেছে নামখানায়। সেখানকার একটি সাধারণ চায়ের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ যা উদ্ধার করেছে, তা দেখে তাজ্জব স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই দোকানটি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৫টি আধার কার্ড, ৯টি ভোটার কার্ড এবং ৩৮টি এলআইসি (LIC)-র বন্ড। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ২৬টি এটিএম কার্ড এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কের পাসবুক। সাধারণ মানুষের এতগুলি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন নথিপত্র কীভাবে ও কী উদ্দেশ্যে একটি চায়ের দোকানে এনে মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কোনও বড় ধরণের সাইবার জালিয়াতি বা ব্যাঙ্ক প্রতারণা চক্র এর পেছনে কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ট্যাংরার পার্টি অফিস ও বরানগরে আধার জালিয়াতি
অন্য দিকে, কলকাতার ট্যাংরার সেকেন্ড লেনে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিসকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বুধবার সন্ধেবেলা ওই দলীয় কার্যালয়টির ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণে সাধারণ মানুষের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড উদ্ধার হয়। এই খবর চাউর হতেই এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত নথিপত্র কেন মজুত রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
এরই সমান্তরালে, উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে আধার কার্ড তৈরি নিয়ে এক বড় চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। কোনও বৈধ নথিপত্র ছাড়াই বেআইনিভাবে নতুন আধার কার্ড তৈরি করা এবং সরকারের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে ‘আধার-লিঙ্ক’ করানোর মারাত্মক অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে আমজনতার অতি সংবেদনশীল সরকারি নথি নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ছবি সামনে আসছে, তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গিয়েছে।






