রাজ্যের খবর

শওকতের ছেলের ক্যাফেতে বুলডোজার অ্যাকশন! নদীর চর চুরি করে তৈরি ‘অরণ্যের কুলে’ ভাঙল প্রশাসন

বাবা শ্রীঘরে যেতেই কপাল পুড়ল ছেলের! ক্যানিংয়ের মৌখালি ব্রিজের পাশে ধুন্ধুমার অ্যাকশন প্রশাসনের!

Truth of Bengal: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বেআইনি নির্মাণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কড়া অ্যাকশন শুরু হয়েছে, তার কোপ এবার এসে পড়ল খোদ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের পরিবারের ওপর। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা হেভিওয়েট নেতা শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন বেআইনি ক্যাফেটেরিয়াতে চলল প্রশাসনের বুলডোজার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যানিংয়ের মৌখালি এলাকায় মাতলা নদীর চর দখল করে তৈরি হওয়া ওই ঝাঁ চকচকে ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এলাকায় যেকোনও ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়াতে নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)।

জানা গিয়েছে, ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার গ্রেফতারি এবং এলাকায় ক্ষমতা বদলের পরেই নজরে এসেছিল তাঁর ছেলে ইমরানের এই ক্যাফেটেরিয়াটি। ক্যাফেটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অরণ্যের কুলে’। অভিযোগ, বাবা যখন এলাকায় দাপুটে বিধায়ক ছিলেন, সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেই মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে মাতলা নদীর চরের ওপর এই বিশাল ক্যাফে তৈরি করেছিলেন ইমরান মোল্লা। সরকারি জমিতেই দিব্যি চলছিল রমরমা ব্যবসা। কিন্তু ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএ-র (NIA) হাতে শওকত মোল্লা গ্রেফতার হতেই হিসাব বদলে যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের সমান্তরালেই প্রশাসনের আতশকাচের তলায় আসে এই বেআইনি নির্মাণটি।

সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সেচ দপ্তরের জমি দখল করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। ক্যানিংয়ের মহকুমা শাসক (SDO) ইমরানকে ক্যাফের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু শুনানিতে কোনও বৈধ নথি বা জমির মালিকানার প্রমাণ দেখাতে পারেননি ইমরান। সমস্ত তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখার পর মহকুমাশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাতলার চরে সেচ দফতরের জমি দখল করে এই বিশাল ক্যাফেটেরিয়াটি তৈরি করা হয়েছে, যার কোনও আইনি বৈধতা নেই। এর পরেই সেটি ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হয়।

সেই নির্দেশ মেনেই আজ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী, জীবনতলা থানার পুলিশ ও ক্যানিং মহকুমার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু হয় ‘অরণ্যের কুলে’। চোখের সামনে কোটি টাকার সাজানো ক্যাফে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে দেখেও এলাকাছাড়া শওকত-অনুগামীরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিল যে, প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করার দিন এবার শেষ।

Related Articles