ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে গিয়েছিলেন আইএসএফ-এ! এবার সেই আরাবুলের বিরুদ্ধে অনাস্থা নওশাদের দলের
তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে গিয়েও রেহাই নেই! অনাস্থার মুখে সভাপতি পদ, তোলপাড় ভাঙড়
Truth of Bengal: রাজ্য রাজনীতির অন্যতম ট্র্যাফিক জংশন হিসেবে পরিচিত ভাঙড়ে ফের নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফে (ISF) যোগ দিলেও ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে আসীন ছিলেন বর্ষীয়ান নেতা আরাবুল ইসলাম। তবে এবার সেই পদ থেকেও তাঁকে সরাতে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে খোদ তাঁরই নতুন দল আইএসএফ! আরাবুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে তারা। এই মর্মে বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আরাবুল ইসলামের সক্রিয় নেতৃত্বেই ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে জয়ধ্বজা উড়িয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সে বার আইএসএফ মাত্র পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছিল এবং বাকি সবকটি আসনই ছিল জোড়াফুল শিবিরের দখলে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই চিত্রটাও বদলে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে আইএসএফ-এর সেই ৫ জন মূল সদস্যের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে আসা বেশ কয়েকজন সদস্য। পঞ্চায়েত সমিতির এই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে সঙ্গে নিয়েই এবার ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থার ডাক দিয়েছে আইএসএফ। ফলে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটাভুটি ও অনাস্থা প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
হঠাৎ করে কেন দলীয় নেতার বিরুদ্ধেই এভাবে অনাস্থা প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু হল, তা নিয়ে অবশ্য এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে মুখ খোলেননি আরাবুল ইসলাম কিংবা ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
তবে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, গত কয়েক মাসে ভাঙড়ে ঘাসফুল শিবিরের একটা বড় অংশ ভাঙিয়ে নিজেদের শক্তি বহু গুণ বাড়িয়ে নিয়েছে আইএসএফ। তৃণমূলের একাধিক কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিরা নওশাদদের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেওয়ার পর এবার কি পঞ্চায়েত সমিতিও পুরোপুরি কব্জা করতে চলেছে আইএসএফ? এখন সবার নজর বারুইপুর মহকুমা শাসকের সিদ্ধান্তের দিকে। কবে এই অনাস্থার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ভাঙড়ের রাজনীতিতে।





