রাজ্যের খবর

পর্যটনে বাংলার জয়জয়কার! দিঘার জগন্নাথ ধামে ৬ মাসে লাখ ছাড়াতে পারে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা

বিশেষ করে দিঘার জগন্নাথধামে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে, মাত্র ছ’ মাসের মধ্যে এটি লাখ ছাড়াতে পারে।

Truth Of Bengal: বাংলা পর্যটনে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। এখন দেশের মধ্যে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলা। কেরল, কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থানসহ বহু রাজ্যকে টেক্কা দিয়ে এই অবস্থান অর্জন করেছে পশ্চিমবঙ্গ। এবার এক নম্বর হওয়ার দৌড় শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে দিঘার জগন্নাথধামে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে, মাত্র ছ’ মাসের মধ্যে এটি লাখ ছাড়াতে পারে।

দিঘার জগন্নাথধামের দর্শনার্থী সংখ্যা ডিসেম্বরের শেষে এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিঘায় বিদেশি পর্যটক গিয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার। ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, আগামী ছ’ মাসের মধ্যে দিঘায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এর কারণ গৌড় পূর্ণিমা উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নবদ্বীপ-ধাম পরিক্রমা শুরু হচ্ছে, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই পরিক্রমায় লক্ষাধিক বিদেশি অংশ নেবেন এবং ষাটটি ধর্মীয় স্থানের দর্শন শেষে সিংহভাগ পর্যটক দিঘায় এসে সৈকতনগরের জগন্নাথদেবের দর্শন করবেন—এটাই চূড়ান্ত পরিকল্পনা।

মে–জুনের মধ্যে দিঘায় ৮৫ হাজার বিদেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনও এই সাফল্যে খুশি। কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রক প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়া টুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম–২০২৫’ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৩১ লক্ষ ২০ হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছে। মহারাষ্ট্র প্রথম স্থানে থাকলেও বাংলা এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পর্যটন উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী বাজেটে ৫২৫.৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে।

রাজ্যের পর্যটন দপ্তর বিদেশি পর্যটকদের সামনে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করতে আন্তর্জাতিক মানে ধর্মীয় স্থানগুলোকে পর্যটক সার্কিটে ভাগ করেছে। বাজেটে বলা হয়েছে, চারশোরও বেশি ধর্মীয় স্থানকে একশোরও বেশি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিটে বিভক্ত করে জোন ভিত্তিতে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। সেই সার্কিটগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পর্যটকদের থাকার, খাওয়ার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে পর্যটক সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালে বিদেশি পর্যটক সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ এবং দেশীয় পর্যটক সংখ্যা ৮.৮ কোটি। কিন্তু ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশি পর্যটক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লক্ষ ২০ হাজার এবং দেশীয় পর্যটক সংখ্যা ২৩.৯৪ কোটি। এই বৃদ্ধির পেছনে দিঘার জগন্নাথ মন্দির ছাড়াও ইউনেসকোর স্বীকৃত দুর্গাপুজোর বিশ্বায়ন, রেড রোডে আন্তর্জাতিক মানের কার্নিভাল—সবই বড় ভূমিকা রেখেছে।

পর্যটন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে পর্যটনের অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতায় ৫৪০৯টি হোম স্টে নথিভুক্ত হয়েছে। বন দপ্তর ৪০১ এবং আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ ২৩৯১টি হোম স্টেকে মান্যতা দিয়েছে। উন্নত পরিষেবার জন্য ২৪০ জন টুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগ করা হয়েছে এবং ২৪৫০ জন ট্যুরিস্ট গাইড নিয়োগ করা হয়েছে। মাইস (Meetings, Incentives, Conferences & Exhibitions) পর্যটনে বাংলা এখন শুধু ভারতেই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

এছাড়া রাজ্য পর্যটন নিগম পাহাড়, সমুদ্র ও জঙ্গলমহল মিলিয়ে দুশোর বেশি টুর প্যাকেজ চালু করেছে। ঐতিহাসিক বিষ্ণুপুর মন্দির নগরে নতুন সরকারি প্যাকেজ টুর চালুর প্রস্তুতি চলছে। বীরভূমের শান্তিনিকেতনে নতুন প্যাকেজ ডিজাইন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে, আর এবার লক্ষ্য এক নম্বর স্থানে পৌঁছানো।

Related Articles