দেশ

বিদ্রোহীদের দলে দেব-রচনা-জুন-ইউসুফরাও, মমতার হাত ছেড়ে এনডিএ শিবিরে তৃণমূলের কারা?

মমতা রইলেন ইন্ডিয়ায়, আর গোটা তৃণমূল চলে গেল এনডিএ-তে!

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মসনদ খোয়ানোর পর এবার জাতীয় রাজনীতিতেও কার্যত অনাথ হয়ে গেল আদি তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৮০ জন দলীয় বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ইতিমধ্যেই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়েছেন। আর সেই একই নকশায় এবার দিল্লির সংসদীয় দুর্গেও নেমে এল চূড়ান্ত মহাপ্রলয়। সোমবার যখন দেশের রাজধানী দিল্লিতে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকে যোগ দিতে ব্যস্ত মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই তাঁদের পিঠের পিছনে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল তৃণমূলের লোকসভার সংসদীয় দল। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই গুঞ্জন, ‘মমতা রইলেন ইন্ডিয়ায়, আর গোটা তৃণমূল চলে গেল এনডিএ-তে!’

সোনিয়াকে আলিঙ্গন মমতার, ওদিকে দিল্লিতেই চূড়ান্ত হল চিত্রনাট্য

সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির বুকে শুরু হয়েছিল ইন্ডিয়া জোটের হাই-ভোল্টেজ বৈঠক। সেখানে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন দৃশ্যে দেখা যায়, বৈঠকের শুরুতেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পূর্ণ বৈঠক জুড়ে সোনিয়ার একেবারে পাশেই আসন গ্রহণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু রাজধানীতে যখন এই জোটের জল্পনা তুঙ্গে, তখনই লোকসভার স্পিকারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদ।

মমতা ও অভিষেকের ‘একনায়কতন্ত্রে’র বিরুদ্ধে খোলাখুলি বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) ব্লকে যুক্ত হওয়ার আবেদনপত্রে সই করেছেন একে একে ২০ জন হেভিওয়েট সাংসদ। এই তালিকায় রয়েছেন, দেব (ঘাটাল), জুন মালিয়া (মেদিনীপুর), অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), জগদীশ বসুনিয়া (কোচবিহার), আবু তাহের (মুর্শিদাবাদ), খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর), শতাব্দী রায় (বীরভূম), অসিত মাল (বোলপুর), কাকলি ঘোষ দস্তিদার (বারাসত), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম), শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব), বাপি হালদার (মথুরাপুর), মিতালি বাগ (আরামবাগ), প্রতিমা মণ্ডল (জয়নগর), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি), ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর), পার্থ ভৌমিক (ব্যারাকপুর)।

দলত্যাগ বিরোধী আইনকে বুড়ো আঙুল, কোন পক্ষে শত্রুঘ্ন-কীর্তি?

বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাঁদের শিবিরে সই করা সদস্যের সংখ্যাটা আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও বাড়তে চলেছে, যা দলত্যাগ বিরোধী আইনের ২/৩ অংশ ভাঙনের শর্তকে অনায়াসে পার করে দেবে। অন্যদিকে, এই ঝড়ের মাঝেও এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে টিমটিম করে জ্বলছেন মাত্র কয়েকজন বিশ্বস্ত সৈনিক। যার মধ্যে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ, সায়নী ঘোষ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায়।

তবে এই চরম টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝে কীর্তি আজাদ (বর্ধমান-দুর্গাপুর) এবং আসানসোলের শত্রুঘ্ন সিনহার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র রহস্য ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁরা এখনও কোনও শিবিরে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় দোলাচলে কালীঘাট। লোকসভার সংসদীয় দল হাতছাড়া হওয়া ছাব্বিশের বঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের কফিনে শেষ পেরেক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles