রাজ্যের খবর

৭২ কোটি টাকা সাইবার প্রতারণায় বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল থেকে গ্রেফতার ৭

রাতারাতি কোটি কোটি টাকার লেনদেন! ডেটা অ্যানালিটিক্সে ধরা পড়ল তোলপাড় করা গ্যাং

কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: এটিএম কাউন্টার থেকে অস্বাভাবিক হারে টাকা তোলার সেই সন্দেহজনক ছবিই শেষপর্যন্ত খুলে দিল দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার জালিয়াতির রহস্যের দরজা! কোনও একক অ্যাকাউন্ট নয়, রানিবাঁধের একাধিক এটিএমে ধারাবাহিকভাবে নগদ তোলার সুনির্দিষ্ট ট্রানজ্যাকশন প্যাটার্ন নজর কাড়তেই কড়া তদন্তে নামে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের ডেটা অ্যানালিসিসে রানিবাঁধ এলাকাকে সাইবার অপরাধের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেখান থেকেই শুরু হয় ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং। শেষপর্যন্ত ৭২ কোটি টাকার আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস করে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে ৭ জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই মেগা সাফল্য ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন বাঁকুড়ার জেলা পুলিশ সুপার ভিজি সতীশ। তিনি জানান, জমা পড়া অভিযোগের তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ফিনান্সিয়াল ট্রেল, এটিএম থেকে নগদ তোলার সময় ও স্থান এবং অ্যাকাউন্টগুলির পারস্পরিক লেনদেনের মানি ট্রেল মিলিয়ে সন্দেহভাজনদের একটি ‘চেইন’ তৈরি করা হয়। একটি প্রতারিত অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর তা দ্রুত কোন অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে, কতক্ষণ পর তা নগদে তোলা হচ্ছে এবং কোন কোন এটিএম ব্যবহার করা হচ্ছে, এই ফিনান্সিয়াল ট্র্যাকিং-ই তদন্তকারীদের হাতে এনে দেয় সাফল্যের চাবি।

তদন্তকারীরা নজর রাখেন রানিবাঁধ চত্বরে থাকা এটিএমগুলির ওপর। ওই অ্যাকাউন্টগুলি ম্যাপ করে টাকা লেনদেনের লিঙ্ক অ্যানালিসিস সম্পন্ন হতেই অপরাধীদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপরেই বিভিন্ন এলাকায় গোপন অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম পিন্টু মান্ডি, আরশাল সরেন, দেবব্রত পাল, শোভন সরেন, দিব্যেন্দু মালিক, অবিনাশ মান্ডি ও দীপক সর্দার। এদের মধ্যে দেবব্রত পাল ওড়িশার বালেশ্বরের বাসিন্দা।

ধৃতদের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৪টি ব্যাঙ্ক পাসবুক, ১৩টি এটিএম কার্ড ও ৯টি চেকবই, পাশাপাশি সরকারি পরিচয়পত্র সহ একাধিক ভুয়া ও সন্দেহজনক নথি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রটির মাধ্যমে প্রায় ৭২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ জালিয়াতি করা হয়েছে। এই বিশাল সাইবার চক্রের জাল ঠিক কত দূর বিস্তৃত এবং এর মূল হোতা বা ‘কিংপিন’ কে, তার সন্ধানে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি ও জেরা চালাচ্ছে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ।

Related Articles