রাজ্যের খবর

স্কুলে ঢুকলেই ফোনে বাজবে বেল! সরকারি প্রাথমিকে হাইটেক বিপ্লবে তাক লাগাল শান্তিপুর

সন্তান কি ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছাল? এবার এক ক্লিকেই অভিভাবকের ফোনে যাবে নোটিফিকেশন!

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কীভাবে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার রূপরেখা বদলে দেওয়া যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নদীয়া জেলার শান্তিপুরের কানাই বঙ্গ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছাত্র-ছাত্রীদের নিবিড় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যে স্বচ্ছ যোগাযোগের দূরত্ব কমাতে এক যুগান্তকারী ও অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে এই স্কুল কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা মাত্রই এবং ছুটি হওয়ার পর বাইরে বের হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাবে মেসেজ নোটিফিকেশন।

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও নিজেদের উদ্যোগে পুরো স্কুল চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে খুদেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিরোনামে এসেছিল এই প্রতিষ্ঠান। এবার তারা আগামী ১ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে চলেছে ‘ডিজিটাল স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এবং ‘প্যারেন্ট কমিউনিকেশন সিস্টেম’ নামে একটি বিশেষ প্রজেক্ট।

এই ব্যবস্থার অধীনে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে দেওয়া হবে একটি করে বিশেষ ‘স্মার্ট আইকার্ড’ (Digital ID Card), যেখানে থাকবে একটি ডিজিটাল কিউআর স্ক্যানার। স্কুলে প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখে বারকোড স্ক্যান হলেই মুহূর্তের মধ্যে নোটিফিকেশন চলে যাবে অভিভাবকদের কাছে। এর ফলে অভিভাবকরা বাড়িতে বসেই নিশ্চিন্ত হতে পারবেন যে তাঁদের সন্তান নিরাপদে স্কুলে পৌঁছেছে কিনা। শুধু তাই নয়, এই বিশেষ ‘প্যারেন্ট অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ক্লাসের প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট, পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ড এবং বিদ্যালয়ের সমস্ত কর্মসূচির আপডেট অভিভাবকরা রিয়েল-টাইমে দেখতে পাবেন।

বিদ্যালয়ের এই অভিনব উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক প্রতিন সেন বলেন, “আমরা সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক মানোন্নয়ন ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কাজ করি। বর্তমানে প্রযুক্তি আমাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুদে পড়ুয়াদের কাছে এই আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখাতে এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করতেই আগামী ১ তারিখ থেকে এই হাইটেক ব্যবস্থা পুরোদমে চালু হচ্ছে। এর ফলে অভিভাবকরা যেমন সন্তানদের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত থাকবেন, তেমনই সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।” শান্তিপুরের এই মডেল এখন রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুলের কাছে এক অনুসরণযোগ্য দিশা হয়ে উঠেছে।

Related Articles