২৪ ঘণ্টাও কাটল না, রাতারাতি যাদবপুরের দেওয়ালে ফিরল কার্ল মার্ক্সের উক্তি
'টেক ব্যাক ইয়োর ওয়ালস'! দেওয়াল মুছতেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ বাম ছাত্রদের, তুঙ্গে বিতর্ক!
Truth of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর রবিবারই রাতারাতি সাদা রঙে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত সব দেওয়াল লিখন। মুখ্যমন্ত্রী একে কর্তৃপক্ষের “বিলম্বিত বোধোদয়” বলে আখ্যা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে ফিরল পুরনো ছবি। ‘আবার সে এসেছে ফিরিয়া’, সাদা প্রলেপের ওপর নীল কালিতে জ্বলজ্বল করে ফুটে উঠেছে কার্ল মার্ক্সের সেই বিখ্যাত উক্তি “…তোমাদের থেকে আমরা সহানুভূতি আশা করি না। তবে যখন আমাদের সময় আসবে, তখন আমরা বৈপ্লবিক শক্তি প্রয়োগ করতে একটুও দ্বিধা করব না।”
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও মাওবাদী ঘেঁষা দেওয়াল লিখনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি চরম সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন শিক্ষার আঙিনায় ‘রেড স্যালুট’ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগান থাকবে? তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রায় সমস্ত বিতর্কিত গ্রাফিতি মুছে ফেলেছিল। রবিবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, জ্ঞানেশ্বরী থেকে শালুয়া, মাওবাদী হিংসায় বহু মানুষের প্রাণ গেছে, তাই এসব সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “মুছেছে তো, এরপর আরও কিছু হবে।”
তবে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরেই প্রতিরোধে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। দেওয়ালের দখল ফিরিয়ে নিতে এসএফআই ডাক দিয়েছে ‘টেক ব্যাক ইয়োর ওয়ালস’ কর্মসূচির। যদিও সোমবার ভোরের নতুন দেওয়াল লিখনটি কারা লিখেছে, সে বিষয়ে সরাসরি দায় স্বীকার করেনি এসএফআই। যে স্থানে নতুন ছবিটি আঁকা হয়েছে, সেখানে আগে লেখা ছিল “ফ্যাসিবাদীদের গণতন্ত্র পাওয়ার কোনও অধিকার নেই।” নতুন বিতর্কিত লেখাটি রাখা হবে না মুছে ফেলা হবে, তা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, ১৯ তারিখের মধ্যরাতের তাণ্ডব এবং তার পরদিন চার নম্বর গেটে নন্দলাল বসু নির্মিত ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও উত্তপ্ত ক্যাম্পাস। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় এবিভিপি-র জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। তারা পাল্টা এক অধ্যাপকের দিকে আঙুল তুলে সিসিটিভি ফুটেজের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সব মিলিয়ে দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার পর নতুন করে লেখা ভেসে ওঠায় যাদবপুরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই এখন চরম রূপ নিয়েছে।





