“ফলতার ১.০৯ লাখের রেকর্ড ভাঙতে হবে!”, নিজের গড় নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর মেগা চ্যালেঞ্জ
মার্চেই ছুটবে বাস-রেল, শহিদ পরিবারেও চাকরি! নন্দীগ্রামের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
Truth of Bengal: ২০২৬ সালের উপনির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা আসনে ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে বিজেপি। ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত ফলতায় পদ্ম ফুটিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন দলীয় নেতৃত্ব। এবার ফলতার সেই বিশাল জয়ের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে নিজের ছেড়ে দেওয়া আসন নন্দীগ্রামে বিজেপিকে আরও বড় ব্যবধানে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের একাধিক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে তিনি সাফ জানান, রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে সর্বদা ১ নম্বর অগ্রাধিকার পাবে পূর্ব মেদিনীপুরের এই ঐতিহাসিক মাটি। আবেগঘন সুরেই শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘নন্দীগ্রাম ভাল থাকলে আমিও ভাল থাকব।’’
২০২১ সালে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। পরবর্তীতে ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনে সেই ব্যবধান বেড়ে সাড়ে ৯ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। তবে ২০১৬ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নন্দীগ্রাম থেকেই তিনি প্রায় ৮১ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। আসন্ন উপনির্বাচনের আগে সেই স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে রেয়াপাড়ার জনসভায় তিনি হাত তুলে প্রশ্ন করেন, ‘‘একবার ৮২ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন, মনে আছে তো? এবার কি ফলতার জয়কেও ছাপিয়ে যাবেন? দু’হাত তুলে কথা দিন।’’
তৃণমূল জমানার শেষ পাঁচ বছরে নন্দীগ্রাম চরম অবহেলার শিকার হয়েছে বলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে হারের পরাজয় ও ক্ষোভে নন্দীগ্রামের দীর্ঘদিনের প্রস্তাবিত রেল প্রকল্প-সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রেখেছিল তৎকালীন সরকার। মাত্র ছয় একর জমির অভাবে আটকে থাকা রেল প্রকল্পের জন্য তাঁর সরকার ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন একর জমি হস্তান্তর করেছে এবং আগামী মার্চের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে। তিনি ঘোষণা করেন, ‘‘নন্দীগ্রাম-বটতলা স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনে চড়ে আমরা বাজকুলে গিয়ে নামব।’’
রেলপথের পাশাপাশি নন্দীগ্রামে নতুন সরকারি বাস স্ট্যান্ড তৈরি, ৩২টি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, এবং হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও সামাজিক সুরক্ষায় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাধ্যমে এলাকার ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা সরাসরি পাঠানোর পাশাপাশি রেয়াপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেড সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করার ঘোষণা দেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে শুভেন্দুর সাফ কথা, “এখানে হেরে গিয়েছিলেন বলে যে ৯টি শহিদ পরিবারকে চাকরি দেওয়া হয়নি, আমার সরকার এসেই তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করেছে।”





