রাজ্যের খবর

মিড-ডে মিলের টাকা নয়ছয়? প্রধান শিক্ষককে ধরে ঘাড় ধাক্কা, মাথার ওপর পড়ল ডিম আর গোবর

বাঁকুড়ায় চরম উত্তেজনা! অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গেটের বাইরে বসিয়ে ‘ডিম থেরাপি’ গ্রামবাসীদের

কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া জেলার একটি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল ও স্কুল উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হল নজিরবিহীন হুলুস্থুল কাণ্ড। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে স্কুল ভবন থেকে জোর করে বের করে এনে গেটের সামনে বসিয়ে তাঁর দিকে ছোঁড়া হল ডিম, মাথায় মাখানো হল গোবর! বাঁকুড়া সদর থানার অন্তর্গত বাঁকি সেন্দড়া হাইস্কুলে ঘটা এই অদ্ভুত ‘ডিম ও গোবর থেরাপি’র ঘটনায় এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মিড-ডে মিলের বরাদ্দ অর্থ তছরুপ এবং স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের গচ্ছিত টাকা আত্মসাতের মারাত্মক অভিযোগ তুলছিলেন গ্রামবাসীরা। ইতিপূর্বেও এই ইস্যুতে গ্রামবাসীরা একাধিকবার স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু করেছিল। তবে তদন্ত চলাকালীনই ধৈর্য হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা স্থানীয়দের একাংশ আইনের তোয়াক্কা না করে চরম পদক্ষেপ নেন।

সোমবার সকালে প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র পাল স্কুলে পৌঁছানো মাত্রই একদল উত্তেজিত গ্রামবাসী তাঁর ওপর চড়াও হন। বৃষ্টির মধ্যেই তাঁকে প্রধান শিক্ষকের ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে স্কুলের মূল ফটকের বাইরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে তাঁকে বসিয়ে রেখে দীর্ঘক্ষণ ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন উপস্থিত জনতা। মেজাজ হারিয়ে বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ডিম ছুঁড়তে শুরু করেন সাধনবাবুর দিকে এবং মাথায় লেপে দেওয়া হয় কাঁচা গোবর।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান শিক্ষককে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের কড়া দাবি, প্রধান শিক্ষক অন্যায়ভাবে স্কুলের যে টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তা অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র পাল দাবি করেছেন, “শিক্ষা দফতরের তদন্তে আমার বিরুদ্ধে আনা তছরুপের অভিযোগ ইতিমধ্যেই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী লোক আমার কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরণের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে।” পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

Related Articles