রাজ্যের খবর

“ইমিগ্রেশন হয়েছিল, কিন্তু ৫ মিনিটের হাঁটা পথেই সব শেষ?”, নেপালে এখনও নিখোঁজ শুভ্রাংশু-পত্নী শর্মিষ্ঠা

পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পরের সেই আধ ঘণ্টা-চল্লিশ মিনিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়েই এখন ঘনাচ্ছে রহস্যের মেঘ

Truth of Bengal: নেপালের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পার হয়ে চিন সীমান্তে প্রবেশ করার ঠিক আগের ৫ মিনিটের পথ। মাঝে কেবল কয়েক ফুটের ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ। অথচ সেই সামান্য হাঁটাপথেই নিখোঁজ হয়ে গেলেন তৃণমূলের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা তথা প্রয়াত মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় এবং বারাসতের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সুস্মিতা ভট্টাচার্য। ভয়াল নেপাল বিপর্যয়ের চার দিন পার হয়ে গেলেও তাঁদের কোনও ইতিবাচক সন্ধান মেলেনি। পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পরের সেই আধ ঘণ্টা-চল্লিশ মিনিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়েই এখন ঘনাচ্ছে রহস্যের মেঘ।

মুভি বা মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই দলটি গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রসুয়া-কেরুং সীমান্ত এলাকায় পৌঁছায়। শুভ্রাংশু রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ওদের নেপাল অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে একটি ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ পেরিয়ে হেঁটে চীন ইমিগ্রেশনে ঢুকতে হয়, যা মাত্র ৫ মিনিটের হাঁটা পথ। কিন্তু সেই পথেই কী যে হয়ে গেল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।” অন্যদিকে সুস্মিতা ভট্টাচার্যের স্বামী তপন ভট্টাচার্য জানান, ২৬ তারিখ সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে তাঁদের ভিসায় স্ট্যাম্প পড়েছিল, আর সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই পাহাড়ি নদীতে প্রলয়ঙ্করী হড়পা বান নেমে আসে। ওই নির্দিষ্ট সময়টুকুর মধ্যেই তাঁরা বিপদের মুখে পড়েন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে রাজ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক ও কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছে পরিবার। তপনবাবু জানান, প্রশাসনের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানো হয়েছে। দূতাবাসের তালিকা মিলিয়ে দেখা হলেও এই নির্দিষ্ট ট্রাভেল গ্রুপের কোনও হদিশ মিলছে না। শুভ্রাংশু রায় বলেন, “জেলা প্রশাসন, স্থানীয় থানা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন। রাজ্য সরকার সমস্ত রকম চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও পজিটিভ আপডেট পাওয়া যায়নি।”

চিন ও নেপাল সীমান্তের সেই সংকীর্ণ সেতু চত্বরে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠিক কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, তা ভেবেই প্রতি মুহূর্তে শিউরে উঠছেন স্বজনরা। সময় গড়ালেও শর্মিষ্ঠা ও সুস্মিতাদেবী-সহ পুরো দলটি নিরাপদে ফিরে আসবে, এই আশাতেই দিন গুনছেন পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

Related Articles