এবার অভিষেকের পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা
সুমিতের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি ও জমি প্রতারণার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল
Truth of Bengal: আর্থিক তছরুপ ও জমি সংক্রান্ত এক বড়সড় জালিয়াতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় পুলিশি তল্লাশি চালানোর পরেও তাঁর কোনো হদিশ না মেলায় তদন্তকারীরা এবার আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে মেদিনীপুরের শালবনি থানায় সুমিতের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি ও জমি প্রতারণার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। শুধু এই মামলাই নয়, এর আগে রাজ্য কাঁপানো কয়লা পাচার কাণ্ডেও এই সুমিত রায়ের নাম জড়িয়েছিল। কয়লা মামলার চার্জশিটে তাঁকে মূল সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং সেই সূত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে এর আগে একাধিকবার দিল্লিতে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।
সুমিত ও অভিষেকের সম্পর্ক কেবল পেশাগত নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত। কলকাতার একটি নামী স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তাঁরা দুজনে একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে এমবিএ করতে চলে গেলেও, আর্থিক সঙ্গতি না থাকার কারণে সুমিত কলকাতাতেই তাঁর এমবিএ সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনের ঘনিষ্ঠ সহপাঠী হওয়া সত্ত্বেও, কর্মক্ষেত্রে অভিষেককে সবসময় ‘স্যর’ বলেই সম্বোধন করতেন সুমিত। অভিষেকের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী হিসেবে তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর এবং সমস্ত ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজের দেখভাল করতেন তিনি। গত শনিবার ভোররাত থেকে এই সুমিতের খোঁজে কলকাতার একাধিক ডেরা ও প্রভাবশালী জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ ‘টাওয়ার লোকেশন’ পাওয়া গিয়েছিল খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ভেতরেই। সেই অকাট্য সূত্র ধরে শনিবার রাত ৩টে নাগাদ পুলিশের একটি বিশাল টিম কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সংলগ্ন অভিষেকের বাসভবনে পৌঁছে যায়। মাঝরাতে সেখানে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া না দেওয়ায়, তদন্তকারীরা শেষমেশ বাড়ির বাইরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে দীর্ঘ তল্লাশির পরেও সুমিতের কোনো খোঁজ মেলেনি। এরপর সকাল ৮টা নাগাদ পুলিশ বাহিনী অভিষেকের বাড়ি থেকে খালি হাতেই বেরিয়ে যায়।
শনিবার রাতের ওই হাইপ্রোফাইল অভিযানের পর দু’দিন কেটে গেলেও সুমিত রায় এখনও সম্পূর্ণ অধরা। তিনি আইন এড়াতে পলাতক বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা, আর সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট) জারি করাল পুলিশ। এদিকে, আপ্তসহায়কের এই অন্তর্ধান ও গ্রেফতারি পরোয়ানার সমান্তরালে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি চাপ পাহাড়প্রমাণ হয়ে উঠেছে। রবিবারই বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় ভবানী ভবনে সিআইডি-র প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে, যেখানে তৃণমূলের অপর এক নেতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই, সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার সকাল থেকে প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র জেরার মুখে রয়েছেন অভিষেক। এই ত্রিমুখী আইনি সংকটের মধ্যেই তাঁর পিএ-র বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

