দেশ ছেড়ে এখন পরদেশেও ফুটবল পায়ে ঝড় তুলছেন সোনালী
একটা সময় কলকাতার ময়দানে লাল-হলুদ, ইউনাইটেড কলকাতা, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সি গায়ে দিয়ে মাঠ কাঁপানো সোনালীর বর্তমান ঠিকানা পাহাড়ি দেশ ভুটানে।
সুদীপ্ত ভট্টাচার্য: ফুটবল পায়ে পেলেই যেন শান্ত স্বভাবের ছোট্ট মেয়েটা হয়ে ওঠেন অসাধারণ। প্রতিপক্ষ দলের একের পর এক খেলোয়াড়কে অবলীলায় কাটিয়ে জাল কাঁপিয়ে দিচ্ছে বেলঘরিয়ার সোনালী। পুরো নাম সোনালী মণ্ডল। একটা সময় কলকাতার ময়দানে লাল-হলুদ, ইউনাইটেড কলকাতা, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সি গায়ে দিয়ে মাঠ কাঁপানো সোনালীর বর্তমান ঠিকানা পাহাড়ি দেশ ভুটানে।
ভুটানের প্রথম সারির মহিলা লিগে থিম্পু সিটি এফসি-র হয়ে ইতিমধ্যেই নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে চলেছেন সোনালী। ১০টি ম্যাচে তাঁর মোট গোল ১৫টি। প্রতি ম্যাচেই দলের হয়ে একের পর এক গোল করে চলেছেন তিনি। সোনালীর এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখে দলের কোচ থেকে থেকে কর্মকর্তা এমনকি তাঁর ক্লাবের আপামর সমর্থকদেরও নয়ণের মণি হয়ে উঠেছেন এই বঙ্গ তনয়া।
কিভাবে ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালবাসা জন্মেছিল সেই কাহিনি শোনাতে গিয়েই থিম্পু থেকে ফোনে সোনালী জানান, ‘আসলে ফুটবলের প্রতি আমার ভালবাসা জন্মেছিল ছোট বয়স থেকেই। তখন আমার বয়স আট বছর হবে। প্রথমে পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলে বেড়াতাম। ধীরে ধীরে ওতপ্রোতভাবে ফুটবলকে ভালবেসে ফেলি। স্বপ্ন দেখতে থাকি আমিও একজন ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে দেশের জার্সিতে মাঠ কাঁপাবো। লড়াই শুরু সেখান থেকেই।’
নিজের ফুটবল শুরুর ইতিহাস সম্বন্ধে বলতে গিয়ে সোনালী জানান, ‘পাড়ার ফুটবল মাঠে তখন আমি ফুটবল খেলতাম। সেখান থেকেই আমাকে নিমতা তরুণ সংঘে নিয়ে এসেছিলেন বুবুন স্যার। স্যারের কাছ থেকেই শিখেছি ভাল ফুটবলার হতে গেলে কিভাবে নিজেকে তৈরি করতে হয়।’
এরপর সোনালী আরও জানান, ‘তরুণ সংঘ থেকে আমার খেলা দেখে তাঁর কল্যাণী ফুটবল অ্যাকাডেমিতে নিয়ে গিয়েছিলেন ময়দানের প্রাক্তন ফুটবলার সুরজিৎ বসু। সেখানে গিয়ে আমি আরও নিজেকে পরিণত করে তুলেছি। পাশাপাশি সুরজিৎ স্যারের কাছে শিখেছি অনেক কিছুই। আজকে আমার এই সাফল্য, সবকিছুই সুরজিৎ স্যারের জন্য। কেননা স্যার আমাকে প্রতিনিয়ত শিখিয়েছেন হাতে ধরে এজন স্ট্রাইকারের কি কি করা উচিত। এবং আগামী দিনেও সুরজিৎ স্যার যেভাবে বলবেন, আমি সেইভাবে অনুশীলন করব, যাতে আরও ভাল ফুটবল খেলা যায়। তবে আমি সুরজিৎ স্যারের পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার ছোটবেলার কোচ বুবুন স্যারকেও।’
কিন্তু কেন সোনালীর ভুটানে পাড়ি দেওয়া? তাঁর উত্তরে নিমতার বাসিন্দা সোনালী বলেন, ‘আসলে সমস্যা তো একটাই। সেটা অর্থ। বাবা বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন। তাতে এই বাজারে সংসার চালানো যে কতটা কষ্টকর সেটা সবাই জানেন। সে কারণে আমি খেলাধুলো করে যা পাই, তা বাবার হাতে তুলে দিই। যাতে কিছুটা হলেও সুরাহা হয়।’
এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কলকাতার কোনও ক্লাবে প্রস্তাব পেলে অবশ্যই ভেবে দেখবেন বলেও জানান সোনালী। বললেন, ‘কলকাতায় ফুটবল খেলতে কে না ভালবাসেন।’ পাশাপাশি এখন দেশের জার্সিতেও খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন সোনালী। বললেন, ‘দেশের জার্সি গায়ে চড়ানোর জন্য আমিও প্রতীক্ষায় আছি। যেদিন সুযোগ পাব সেদিন নিজেকে মেলে ধরব। আর সেই দৃশ্য দেখার জন্য শুধু আমি একা নই, আমার বাবা-মা সকলেই বসে আছেন। জানি না কবে আসবে এমন সুযোগ।’






