ISL Clubs: আইএসএলের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে অন্তর্বর্তী আবেদন, ফেডারেশনের নীতিতে বড় প্রশ্নচিহ্ন
চিঠিতে ক্লাবগুলি জানিয়েছে, গত ১১ বছর ধরে লোকসান মেনে নিয়েও তারা ফুটবলে বিনিয়োগ করে এসেছে, কারণ নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কাঠামো এবং কেন্দ্রীয় রাজস্ব ভাগাভাগি ছিল স্থিতিশীল।
Truth of Bengal: ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের দাবি তুলল আইএসএলের ক্লাবগুলি। ইস্টবেঙ্গল বাদে অংশগ্রহণকারী সমস্ত ক্লাব শুক্রবার সকালে ভারচুয়াল বৈঠক করে এবং তারপর ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে পাঠাল তীব্র ভাষার পত্রবোমা। ক্লাবগুলির অভিযোগ এআইএফএফের সাংবিধানিক জটিলতা, আর্থিক অস্থিরতা ও অস্পষ্ট টেন্ডার প্রক্রিয়া আইএসএলকে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চিঠিতে ক্লাবগুলি জানিয়েছে, গত ১১ বছর ধরে লোকসান মেনে নিয়েও তারা ফুটবলে বিনিয়োগ করে এসেছে, কারণ নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কাঠামো এবং কেন্দ্রীয় রাজস্ব ভাগাভাগি ছিল স্থিতিশীল। কিন্তু এখন সেই রাজস্ব পুরোপুরি বন্ধ। ফলে খেলোয়াড়–কর্মীদের বেতন, দল চালানো ও লিগ পরিচালনা—সবই বিপর্যয়ের মুখে।সংকট এতটাই গভীর যে ক্লাবগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি অন্তর্বর্তী আবেদন করেছে। তাদের অভিযোগ—এআইএফএফের সংবিধানের ১.২.১, ১.৫.৪ এবং ৬৩ নম্বর ধারা বর্তমান টেন্ডার প্রক্রিয়াকে অকার্যকর করে তুলছে।
ক্লাবগুলির বক্তব্য সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও ও পরামর্শদাতা সংস্থা কেপিএমজি–র রিপোর্টেও একই সমস্যার উল্লেখ আছে, যার জেরে আগের টেন্ডারে কোনও বড় বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখায়নি।সর্বশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। তাই ক্লাবগুলির অনুরোধ—ফেডারেশন যেন সরকারিভাবে কেন্দ্রের সহায়তা চায় এবং এই অন্তর্বর্তী আবেদনের প্রতি সমর্থন জানায়।এছাড়া ক্লাবগুলির দাবি—এআইএফএফ তাদের নতুন সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজন হলে নিজে থেকেই সংশোধন আনতে পারে, এবং লিগ পরিচালনার পথে থাকা সাংবিধানিক বাধাগুলি এখনই সরাতে হবে।ক্লাবগুলি জানিয়েছে, নতুন দরপত্র শুধুমাত্র তখনই ডাকা উচিত, যখন সব সাংবিধানিক জটিলতা দূর হবে,লিগ পরিচালনার আইনি ও বাণিজ্যিক নিশ্চয়তা ফিরবে।তারা স্পষ্ট করেছে, কঠোর সময়সীমা বেঁধে টেন্ডার করতে হবে, নয়তো এই মরশুমই ভেস্তে যেতে পারে।
নতুন টেন্ডারে থাকতে হবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের নিজেদের পরিকল্পনা পেশের স্বাধীনতা,অবাস্তব ন্যূনতম আয় নিশ্চয়তা চাপানো থেকে বিরত থাকা।ক্লাবগুলির সতর্কবার্তা ৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্র বা এআইএফএফকে সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা দিতেই হবে। তা না হলে গত এক দশকে তৈরি হওয়া ভারতীয় ফুটবল ইকোসিস্টেমে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।শেষে ক্লাবগুলি স্পষ্ট করেছে ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচাতে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং প্রয়োজন হলে সব রকম সাহায্য করবে।আইএসএলের ভবিষ্যৎ, কার্যত এখন আদালত ও কেন্দ্র–ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।






