আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গোল করেই অঝোরে কাঁদলেন মেসি! কারণ শুনলে চোখে জল আসবে আপনারও
ম্যাচ শেষে চোখের জল মুছে কোন গোপন সত্য ফাঁস করলেন ফুটবল ঈশ্বর?
Truth of Bengal: ৩৯ বছরে পা দিতে আর মাত্র দিন কয়েক বাকি। কিন্তু ফুটবল মাঠে তিনি যখনই নামেন, বয়স নামক সংখ্যাটা স্রেফ কর্পূরের মতো উড়ে যায়। তিনি ফুটবল ইতিহাসের রাজপুত্র, লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। চলতি ফিফা বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে অনবদ্য এক হ্যাটট্রিক করে ফের একবার গোটা ফুটবল দুনিয়ায় ঝড় তুলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনীয় এই কিংবদন্তি। কিন্তু এই ম্যাচ ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মেসির কান্না! আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোলটি করার পরেই মাঠের বুকে আবেগঘন হয়ে পড়তে দেখা যায় এলএম ১০-কে। তাঁর চোখ দিয়ে অঝোরে জল ঝরতে থাকে। কিন্তু কেন এই কান্না? এর নেপথ্যে কি শুধুই রেকর্ড গড়ার আনন্দাশ্রু, নাকি লুকিয়ে ছিল অন্য কোনও বড় যন্ত্রণা? ম্যাচ শেষে নিজেই সেই রহস্য ফাঁস করলেন লিও।
২৫ গজ দূর থেকে সেই অতিমানবিক চিরপরিচিত গোল
বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৭ মিনিট। বক্সের কিছুটা উপরে মেসির জন্য সামান্য একটু খোলা জায়গা ছেড়ে ভুল করেছিলেন আলজেরিয়ার ডিফেন্ডাররা। তাঁরা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন, এই পকেটটাই মেসির সাম্রাজ্য! বক্সে ঢোকার চেষ্টা না করে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ-পায়ের সেই চিরপরিচিত জাদুকরী বাঁকানো জোরালো শট মারেন মেসি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকার হাতে বল লাগলেও তা বুলেট গতিতে জাল ছুঁয়ে যায়। ফুটবল বিশ্ব আরও একবার স্তম্ভিত হয়ে দেখল মেসির সেই চেনা ম্যাজিক।
গোলের পর কেন কাঁদলেন মেসি?
প্রথম গোলটির পরেই দেখা যায় মেসির চোখে জল। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের এই কান্নার আসল কারণ খোলসা করে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, “এই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের বা মাঠের কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে বিশ্বকাপের ঠিক আগে চোটের কারণে আমার মাঝে কয়েকটা খুব কঠিন দিন কেটেছে। আমি আদৌ বিশ্বকাপে খেলতে পারব কি না, তা নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমার গোটা দল এবং স্টাফরা যেভাবে আমার পাশে থেকেছে, আমি কৃতজ্ঞ। জীবনে যা পেয়েছি তা সোনায় সোহাগা। আমি এখন প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি।”
الأسطورة ميسي يجهش بالبكاء بعد تسجيله 😢 pic.twitter.com/OwmmDrSb0o
— Messi World (@M10GOAT) June 17, 2026
“মেসি পুরো পাগল!”, মুগ্ধ ফুটবল দুনিয়া
মেসির এই অতিমানবিক প্রত্যাবর্তন দেখে আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni) ম্যাচ শেষে বলেন, “ও অসাধারণ, অবিশ্বাস্য! ওকে নতুন করে বর্ণনা করার মতো কোনও শব্দ আমার ডিকশনারিতে নেই।”
শুধু স্কালোনিই নন, মেসির এই হ্যাটট্রিক দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিস্ময় চেপে রাখতে পারেননি নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডও (Erling Haaland)। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে মেসির ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘মেসি পুরো পাগল!’





