সাইবার হানার শিকার ক্ষুদিরাম টুডু! তড়িঘড়ি পরিচিতদের কী বার্তা দিলেন মাদ্রাসা মন্ত্রী?
হোয়াটসঅ্যাপ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ! মন্ত্রী সেজে মেসেজে টাকা দাবি, কী ঘটেছিল ক্ষুদিরামের সঙ্গে?
Truth of Bengal: রাজ্যে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সাইবার প্রতারকদের উপদ্রব। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এবার ভিআইপিদের অ্যাকাউন্ট লক্ষ্য করে ছক কষছে দুষ্কৃতীরা। এবার সাইবার জালিয়াতির শিকার হলেন রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। মন্ত্রীর জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানকারী অ্যাপ ‘হোয়াটসঅ্যাপ’টি নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। শুধু হ্যাক করেই খান্ত থাকেনি, মন্ত্রীর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নজরে আসতেই তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে প্রশাসনিক মহলে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর নাম করে কেউ টাকা চাইলে যেন এক টাকাও না দেওয়া হয়। পোস্টের সাথে একটি ভিডিও বার্তাও শেয়ার করেছেন তিনি। যেখানে তিনি লেখেন, “প্রিয় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা, আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি (94747 78898) হ্যাক হয়েছে। আমার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়া ও বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানো হচ্ছে। অনুগ্রহ করে আমার নামে আসা কোনও টাকা চাওয়ার মেসেজ বা কলকে বিশ্বাস করবেন না।”
এমন কোনো ভুয়ো মেসেজ পেলে তার উত্তর না দেওয়ার জন্য সকলকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই আইনি ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কোন চক্র কাজ করছে এবং এর আসল উদ্দেশ্যই বা কী, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদম তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, রাজ্যের মন্ত্রীদের সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। কিছুদিন আগেই শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও ঠিক একইভাবে হ্যাক করে টাকা দাবি করেছিল জালিয়াতরা। বর্তমানে সাইবার অপরাধ দমনে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিটি থানায় সাইবার হেল্প ডেস্কেও কড়া নজরদারি চলছে। কিন্তু প্রশাসন সাইবার প্রতারকদের ডানা ছাঁটতে যত পদক্ষেপই নিক না কেন, খোদ মন্ত্রীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের এই ঘটনা নতুন করে সাইবার সুরক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।






