মেয়ের বিশ্বজয়ের সাফল্যই ফিরে পেলেন চাকরি
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হস্তক্ষেপেই দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই মামলার সমাধান সম্ভব হয়েছে।
Truth Of Bengal: মেয়ের বিশ্বজয়ের সাফল্যই বদলে দিল বাবার ভাগ্য। গত নভেম্বরে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা ভারতীয় মহিলা দলের অন্যতম সদস্য ক্রান্তি গৌড়ের বাবা মুন্না সিং ফের পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি ফিরে পেলেন। ১৪ বছর আগে যে চাকরি হারাতে হয়েছিল তাঁকে, অবশেষে সেই উর্দি ফের পরার সুযোগ মিলল।মধ্যপ্রদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী বিশ্বাস সারাং জানিয়েছেন, যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুন্না সিংকে আবারও মধ্যপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবলের পদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হস্তক্ষেপেই দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই মামলার সমাধান সম্ভব হয়েছে।
২০১২ সালে নির্বাচনের সময় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে মুন্না সিংকে কনস্টেবলের চাকরি থেকে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় ক্রান্তির পরিবারের। আট সদস্যের সংসার চালাতে বাস কন্ডাক্টরের কাজ করতে হয়েছিল মুন্না সিংকে। মেয়ের ক্রিকেটের খরচ জোগাতে কখনও কখনও একবেলার খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল পরিবারের জন্য।সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়েই গ্রামের ধুলোমাখা পথ থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসেন ক্রান্তি গৌড়। সদ্যসমাপ্ত মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
বিশ্বজয়ী দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছিলেন, ‘আপনার পরিবারের সমস্যার কথা জানতে পেরেছি। রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আমরা নিয়ম মেনেই আপনার বাবার চাকরি পুনর্বহাল করব। ‘ সেই প্রতিশ্রুতিই এবার বাস্তবায়িত করল মধ্যপ্রদেশ সরকার।ক্রান্তির বাবার চাকরি ফেরার খবর জানিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী বিশ্বাস সারাং বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তে পরিবারটি বড় স্বস্তি পাবে। এই সরকার অ্যাথলিটদের সম্মান করে, তারই প্রমাণ এটি। ক্রান্তির স্বপ্ন ছিল, তাঁর বাবা উর্দি পরে সসম্মানে অবসর নেবেন। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।‘
প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপের পর সদ্যসমাপ্ত শ্রীলঙ্কা সিরিজেও ভালো পারফরম্যান্স করেছেন ক্রান্তি গৌড়। এখন তাঁর লক্ষ্য আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ, যেখানে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দেশকে আবারও সাফল্য এনে দিতে চান এই বিশ্বজয়ী পেসার।






