কলকাতারাজ্যের খবর

বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার পেনশন-সংকট! রাজ্যের নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মীদের

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনগুলি।

Truth Of Bengal: রাজ্যের অধ্যাপক, অফিসার ও শিক্ষাকর্মীদের পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর বা তার পরে যাঁরা অবসর নেবেন এবং যাঁরা জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তাঁরা অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা আংশিক ও প্রভিশনাল বা অস্থায়ী ভিত্তিতে পাবেন।

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনগুলি। যাদবপুর, কলকাতা, বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী-সহ রাজ্যের মোট ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এর প্রতিবাদে অবস্থান নিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতিম রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়েরই। সরকারের এই পদক্ষেপকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেন।

শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, অফিসার ও শিক্ষাকর্মীরা ১০০ শতাংশ পেনশন পেলেও তা শর্তসাপেক্ষ বা প্রভিশনাল হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও ৭৫ শতাংশ অর্থ মিলবে বলে জানানো হয়েছে, সেটিও অস্থায়ী ভিত্তিতে। পেনশনের এককালীন অংশ পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

পেনশন ও গ্র্যাচুয়িটির নিয়মে কী বদল?

১. প্রভিশনাল বা শর্তসাপেক্ষ পেনশন

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য কর্মীরা ১০০ শতাংশ পেনশন পেলেও তা হবে ‘প্রভিশনাল’। অর্থাৎ, এটি চূড়ান্ত বা স্থায়ী পেনশন নয়। নথিপত্র যাচাই বা পরবর্তী কোনো স্ক্রুটিনির ভিত্তিতে এই পেনশনের পরিমাণে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা বজায় রাখা হয়েছে।

২. আংশিক গ্র্যাচুয়িটি

সাধারণত অবসরের সময় গ্র্যাচুয়িটির পুরো টাকা একলপ্তে পাওয়া যায়। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গ্র্যাচুয়িটির মাত্র ৭৫ শতাংশ টাকা দেওয়া হবে। বাকি ২৫ শতাংশ টাকা কবে বা কোন প্রক্রিয়ায় পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে এখনই স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এটিও আপাতত ‘অস্থায়ী’ ভিত্তিতে প্রদান করা হবে।

৩. পেনশনের এককালীন অংশ স্থগিত

পেনশনভোগীরা চাইলে তাদের মোট পেনশনের একটি অংশ অগ্রিম বা এককালীন (Commutation) হিসেবে নিতে পারেন। রাজ্য সরকারের নয়া নির্দেশিকায় এই সুবিধাটি স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী কোনো সরকারি নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এই এককালীন অর্থ পাবেন না।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য শাঙ্খ্যায়ন চৌধুরী বলেন, এতদিন অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত নিয়ম নির্ধারণের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ছিল। এখন সরকার সরাসরি সেই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে। তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হলেও কোনও সমাধান হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার রক্ষা ও দাবি আদায়ে সংগঠিত আন্দোলনের পথে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

এদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলির তরফে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টিও ফের সামনে আনা হয়েছে। বর্তমানে যাদবপুর ও কলকাতা-সহ ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ হলেও, ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনি জটিলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, দোষ-গুণ বিচার না করে দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হোক।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর গোস্বামী বলেন, স্থায়ী উপাচার্যের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং পঠন-পাঠন উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষকরা।

Related Articles