বিজয় হাজারেতে আগুন ফর্মের পরেও ব্রাত্যই রইলেন শামি! নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলে নেই বাংলার পেসার
প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানের মতে, শামির ভারতীয় দলে ফেরার দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
Truth Of Bengal: ঘরোয়া ক্রিকেটে একের পর এক নজরকাড়া পারফরম্যান্স। তবু জাতীয় নির্বাচকদের মন ভরাতে পারলেন না মহম্মদ শামি। ফর্মে থাকা এই অভিজ্ঞ পেসারকে বাদ রেখেই নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিটি। বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বাংলার তারকা পেসার এখনও অজিত আগরকরদের কাছে ‘ব্রাত্য’ই রয়ে গেলেন। তবে প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানের মতে, শামির ভারতীয় দলে ফেরার দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইরফান পাঠান বলেন, সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মহম্মদ শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে। ওর ঝুলিতে ৪৫০ থেকে ৫০০ আন্তর্জাতিক উইকেট রয়েছে—যা বিরাট একটা সংখ্যা। তবু ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা কারও সঙ্গেই হতে পারে। কিন্তু যতদিন ক্রিকেট খেলবে, ততদিন নিজেকে প্রমাণ করে যেতে হবে।শামির ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই বলেই মনে করছেন পাঠান।
তাঁর কথায়, শামি ইতিমধ্যেই ২০০ ওভারের বেশি বোলিং করেছে। সেটাই প্রমাণ করে ও কতটা ফিট। ওর আর কতটা উন্নতির দরকার, সেটা শুধু নির্বাচন কমিটিই জানে। আমি যদি শামির জায়গায় থাকতাম, আইপিএলকেই জবাব দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে বেছে নিতাম। নতুন বল হাতে এমন স্পেল করতাম, যা সবাই মনে রাখবে। আইপিএলে পারফর্ম করলে কেউই আপনাকে উপেক্ষা করতে পারবে না। গোটা বিশ্ব এই টুর্নামেন্ট দেখে। সেখানে পুরনো ছন্দ আর ফিটনেস দেখাতে পারলে আবার দলে ফেরা সম্ভব।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ সুযোগ পেলেও তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষ নজর কাড়েনি। সেই কারণেই শামির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর্নাটকের পেসারের উপরই ভরসা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে জাতীয় দলের দরজা আপাতত বন্ধই রইল শামির জন্য।শেষবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন শামি। সেই টুর্নামেন্টে দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। তবে দলে না থাকলেও নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে রাখছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। রনজি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হাজারে ট্রফি মিলিয়ে ২০০ ওভারের বেশি বল করে ইতিমধ্যেই নিয়েছেন ৪৭ উইকেট।
চলতি বিজয় হাজারে ট্রফিতে শামির পারফরম্যান্স আরও উজ্জ্বল। সাত ইনিংসে ১৫ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। গড় ১৪.৯৩, ইকোনমি রেট ৮.৯০—সংখ্যাগুলোই তাঁর ফর্মের প্রমাণ দিচ্ছে। এই টুর্নামেন্টের পর রনজি ট্রফির বাকি ম্যাচগুলিতে খেলবেন তিনি। তার পর আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে দেখা যাবে শামিকে। ১০ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছে এলএসজি।






