খেলা

সন্তোষ ট্রফিতে টানা জয় বাংলার

প্রতিপক্ষের প্রথম ম্যাচের ভিডিও দেখে আগেভাগেই ছেলেদের সতর্ক করেছিলেন তিনি—বিশেষ করে নিজেদের অর্ধে লম্বা থ্রো’র সময় বাড়তি মনোযোগ রাখতে বলা হয়েছিল।

Truth Of Bengal: নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার গোলের দাপুটে জয় দিয়ে সন্তোষ ট্রফির মূলপর্ব শুরু করেছিল বাংলা। সেই জয়ের রেশ বজায় রেখেই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তরাখণ্ডকে ১-০ হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিল বঙ্গ ব্রিগেড। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯০+৬ মিনিটে) নরহরি শ্রেষ্ঠার অসাধারণ গোলেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলার।এই ম্যাচে নামার আগে কিছুটা চিন্তায় ছিল বাংলা শিবির। গোড়ালিতে হালকা চোটের কারণে প্রথম একাদশে ছিলেন না আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার উত্তম হাঁসদা। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের লম্বা থ্রো এবং ধ্বংসাত্মক ফুটবল নিয়েও সতর্ক ছিলেন কোচ সঞ্জয় সেন।

প্রতিপক্ষের প্রথম ম্যাচের ভিডিও দেখে আগেভাগেই ছেলেদের সতর্ক করেছিলেন তিনি—বিশেষ করে নিজেদের অর্ধে লম্বা থ্রো’র সময় বাড়তি মনোযোগ রাখতে বলা হয়েছিল। আরেকটি সমস্যা ছিল ম্যাচের দিন হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যাতায়াতের ক্লান্তি। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার যাওয়া-আসা প্রথম ম্যাচেই ভুগিয়েছিল দলকে। তবে সেই ক্লান্তিকে পিছনে ফেলে রেখে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন বাংলার ফুটবলাররা।উত্তমের অনুপস্থিতি ছাড়া প্রথম একাদশে কোনও পরিবর্তন করেননি সঞ্জয় সেন। বহু যুদ্ধের নায়ক নরহরি শ্রেষ্ঠা প্রথম এগারোয় থাকবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু অনেকটাই চমকে দিয়ে তাঁকে বেঞ্চে রাখেন কোচ। সম্ভবত শেষের জন্য তুরুপের তাস আগলে রেখেছিলেন তিনি—আর সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

ম্যাচে উত্তরাখণ্ড শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথম ম্যাচে হারের পর বাংলার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া ছিল তারা। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল একাধিক সুযোগ নষ্ট করে। ধীরে ধীরে ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই সংযুক্তি সময়ে বজ্রাঘাত।৯০+৬ মিনিটে বদলি হিসাবে নামা নরহরি শ্রেষ্ঠা অসাধারণ দক্ষতায় গোল করে ডেডলক ভাঙেন। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলার। সঞ্জয় সেনের দল আবারও প্রমাণ করল—যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।এই জয়ের ফলে সন্তোষ ট্রফির মূলপর্বে বাংলার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন ফুটবল মহল।

Related Articles