কলকাতা

বিধানসভায় সই জালিয়াতির নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড কে? তোলপাড়ের মাঝেই কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে কল্যাণ-মদনরা!

সই কাণ্ডে ফেঁসে যাওয়ার ভয়? ড্যামেজ কন্ট্রোলে সোমবার কালীঘাটে ঘণ্টাখানেকের রুদ্ধদ্বার বৈঠক কল্যাণ-মদনদের

Truth of Bengal: বিধানসভায় বিধায়কদের সই বিতর্ক নিয়ে এই মুহূর্তে প্রবল উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। জল অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে, কারণ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি (CID)। আর এই আইনি বিপাক থেকে দলকে কীভাবে বের করা যাবে, সেই আপদকালীন সমাধানসূত্র খুঁজতেই সোমবার কালীঘাটে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব। তৃণমূল সুপ্রিমোর কালীঘাটের বাসভবনে আয়োজিত এই জরুরি বৈঠকে হাজির ছিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা। যদিও ব্যক্তিগত কারণে এই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত ছিলেন না। তবে দল যে এই মুহূর্তে এক গভীর ও সুনিপুণ আইনি ষড়যন্ত্রের জালে আটকে পড়েছে, তা মেনে নিচ্ছেন উপস্থিত নেতারা।

বিতর্কের আসল উৎস কী? কোথায় হল গরমিল?

ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পর। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়, যেখানে সর্বসম্মতিক্রমে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। উপস্থিত সবাই হাত তুলে সমর্থন জানালেও, সেই সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনাপত্র সেদিন বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়নি।

পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রারে সই করেন সকলে। এরপর বিধানসভার সচিবালয় যখন বিরোধী দলনেতার নামের প্রস্তাবপত্র চায়, তখন তড়িঘড়ি গত ১৯ মে ফের বিধায়কদের কালীঘাটে ডাকা হয়। সেদিন মূলত কে কে উপস্থিত আছেন, তা দেখতে একটি সাধারণ হাজিরা খাতায় সই নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সই করা ৭০ জনের নামের তালিকাটিকেই বিরোধী দলনেতার সমর্থনকারী প্রস্তাবপত্র হিসেবে বিধানসভার সচিবের কাছে জমা দেয় তৃণমূল।

ধরে ফেললেন সচিব, এন্ট্রি নিল সিআইডি!

আসল গোলমালটা বাধে এখানেই। শপথগ্রহণের খাতার আসল সইয়ের সঙ্গে ১৯ মে-র সইয়ের কোনও মিল খুঁজে পাননি বিধানসভার সচিব। সরাসরি জালিয়াতির সন্দেহ হওয়ায় তিনি থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। সিআইডি তদন্তভার নেওয়ার পরেই একের পর এক তৃণমূল বিধায়ককে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে, যা দলের অস্বস্তি চরম মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে।

এরই মধ্যে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন যে, ১৯ তারিখের অফিসের অ্যাটেনডেন্স খাতার পাতা ছিঁড়েই নাকি রেজুলিউশন বা প্রস্তাবের কাগজ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল! সোমবারের বৈঠকে এই আইনি ফাঁকফোকর কীভাবে জোড়া দেওয়া যায়, তা নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দুঁদে আইনজীবীরা দীর্ঘ আলোচনা করেন। নেতাদের একাংশের দাবি, এই জালিয়াতির বীজ অনেক আগেই বোনা হয়েছিল এবং দলের কোনও ‘ঘরের শত্রু’ এর নেপথ্যে রয়েছে। এখন দেখার, আইনি লড়াইয়ে সিআইডির হাত থেকে বাঁচতে তৃণমূল কী পাল্টা চাল দেয়।

Related Articles