দেশ

পোর্টাল সমস্যায় চাপে সিবিএসই, চেয়ারপার্সনকে ডেকে পাঠাল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

বৈঠকে পরীক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলকেও রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে

Truth of Bengal: সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ‘অনস্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম’ (OSM) বা ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক ও অসন্তোষ আছড়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাধিক গুরুতর অভিযোগের মুখে এবার নড়েচড়ে বসল দেশের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এই মূল্যায়ন বিভ্রাট এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির জবাবদিহি করতে এবার সিবিএসই-র চেয়ারপার্সন রাহুল সিং এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব সঞ্জয় কুমারকে তলব করল কমিটি। বৈঠকে পরীক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলকেও রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।

সিবিএসই-র ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রযুক্তি-নির্ভর এই অনস্ক্রিন মার্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে খাতা দেখা হয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর থেকেই লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী নম্বরে ব্যাপক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। পুনর্মূল্যায়ন বা যাচাইকরণের জন্য বোর্ড খাতার যে স্ক্যান কপি পড়ুয়াদের পাঠিয়েছে, তা নিয়েই দানা বেঁধেছে মূল বিতর্ক। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ:

  • বোর্ডের পাঠানো স্ক্যান করা উত্তরপত্র অত্যন্ত ঝাপসা, যা পড়াই যাচ্ছে না।

  • উত্তরপত্রের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা সম্পূর্ণ উধাও বা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

  • খাতার ভেতরে একাধিক উত্তরের পাশে কোনও নম্বর বা মূল্যায়নই করা হয়নি।

  • মোট নম্বর গণনার ক্ষেত্রেও (টোটালিং) ধরা পড়েছে মারাত্মক ভুল।

  • এমনকি, একজনের রোল নম্বরে অন্য পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আপলোড করে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে।

বিতর্কের জেরে পড়ুয়াদের সুবিধার্থে সিবিএসই তাদের পোর্টাল নতুন করে খুলে দিলেও ভোগান্তি কমেনি। গত ১ জুন (সোমবার) সারাদিন চেষ্টা করেও পোর্টাল খোলা যায়নি, স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল ‘আন্ডার মেনটেন্যান্স’ (Under Maintenance) বার্তা। আজ, মঙ্গলবার সকালে নতুন করে ওয়েবসাইটটি চালু করা হলেও যান্ত্রিক ত্রুটি কাটেনি। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের (Revaluation) জন্য আবেদনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু আবেদন করতে গেলেই সার্ভার ক্র্যাশ করছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘পেমেন্ট গেটওয়ে’ বিভ্রাট— টাকা কেটে নিলেও আবেদনপত্র জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের একাংশের।

Related Articles