কলকাতা

মৃত্যুর দায় মুখ্যমন্ত্রীর! তীব্র আক্রমণ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কেন এত কষ্ট দিলেন? আমার স্বামীকে কেন কেড়ে নিলেন? ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কী করে থাকবো?"

Truth Of Bengal: এসএসসি চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেনের মৃত্যু (Teacher Death) ঘিরে শোকাহত পরিবার। শুক্রবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। দেহ পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত শিক্ষকের স্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন এত কষ্ট দিলেন? আমার স্বামীকে কেন কেড়ে নিলেন? ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কী করে থাকবো?”

প্রাক্তন বিচারপতি ও বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে বলেন, “পরিবার সঠিক অভিযোগ করেছেন। এই চাকরিহারা শিক্ষকের মৃত্যুর দায় মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে। চাকরি দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত মমতা। সঠিক সময়ে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করলে এই মৃত্যু ঠেকানো যেত।”

তিনি আরও বলেন, “কেন যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ করছেন না? মমতা ব্যানার্জী যে জালিয়াতি করেছেন তা ধরা পড়েছে। তার শোধ তুলছেন যোগ্য প্রার্থীদের উপর। যিনি মারা গেছেন তিনি একজন আদিবাসী শিক্ষক। তিনি যোগ্য বলেই মনে হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জী কী চাইছেন? এভাবেই যোগ্যরা মারা যাক? তাঁর স্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন, আমি মনে করি সঠিকভাবেই করেছেন।”

স্বাধীনতা দিবসের সকালে মৃত্যু (Teacher Death) হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার ৩৫ বছরের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক সুবল সোরেনের। গত মঙ্গলবার তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তাঁকে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতদেহ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে পুলিশ, এমন অভিযোগ তুলে প্রাক্তন শিক্ষকরা রাস্তা অবরোধ করেন। ইএম বাইপাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদীদের অভিযোগ, “গত বছর আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের পরও একইভাবে মৃতদেহ সরানোর চেষ্টা হয়েছিল। আজও তাই করা হল।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যদি রাজ্য সরকার হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তৎকালীন দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীদের তালিকা জমা দিত, তাহলে আজ এতজন চাকরি হারাত না, সুবল সোরেনেরও মৃত্যু হত না।”

রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ এত তাড়াহুড়ো করছিল কেন? কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যেত না? রাজ্য সরকার দায় এড়াতে পারে না।”

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এর ফলে ২৫,৭৫৩ জন চাকরি হারান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, নতুন করে ৪৪,২০৩ পদে নিয়োগ হবে এবং তা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। তবে চাকরি হারানো প্রার্থীরা নতুন পরীক্ষায় বসতে অস্বীকার করে আন্দোলনে নেমেছেন।

সাত বছর ধরে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন সুবল সোরেন। চাকরি হারানোর পর থেকে মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। সহকর্মীরা বলেন, “আমাদের মৃত্যু সার্টিফিকেট লেখা হয়ে গিয়েছে গত ৩ এপ্রিলেই। এখন আমরা একে একে সংগ্রহ করছি। সুবল সোরেন প্রথম শহিদ (Teacher Death)।”

Related Articles