কলকাতা

সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ডে বাংলা বাধ্যতামূলক, পাহাড়ে নেপালি! ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন নির্দেশ কার্যকরের ডেডলাইন নবান্নের

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ডে শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।

Truth of Bengal: সরকারি প্রকল্পের প্রচার ও তথ্যপ্রদর্শনে এবার ভাষার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কাজের তথ্যফলক বা সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হল। অন্যদিকে, দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পাহাড়ি অঞ্চলে সাইনবোর্ডে নেপালি ভাষা ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে সেখানে বাংলাও রাখা যাবে। এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনিক স্তরে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ডে শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রকল্পের খুঁটিনাটি তথ্য জানা এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। সেই সমস্যা দূর করতেই স্থানীয় ভাষায় সরকারি প্রকল্পের যাবতীয় তথ্য প্রকাশের উপর জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ড বা হোর্ডিংয়ে প্রকল্পের নাম, কাজের বিবরণ, আনুমানিক ব্যয়, অর্থের উৎস, কাজ শুরুর ও শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ এবং রূপায়ণকারী সংস্থার যোগাযোগের বিবরণ বাংলায় উল্লেখ করতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমস্ত সরকারি দপ্তর, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং জেলা প্রশাসনকে।

তবে পাহাড়ি এলাকার ক্ষেত্রে ভাষার নিয়মে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর অন্তর্ভুক্ত এলাকায় সাইনবোর্ডে নেপালি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে তার পাশাপাশি বাংলা ভাষাও ব্যবহার করা যাবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ইংরেজি বা হিন্দি ভাষায় তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও রাজ্যের এই নির্দেশ মানতে হবে। সে ক্ষেত্রে সাইনবোর্ডের প্রধান বা উপরের অংশে বাংলা কিংবা পাহাড়ি এলাকায় নেপালি ভাষায় তথ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি বা হিন্দি ভাষাও ব্যবহার করা যাবে।

শুধু ভাষার ক্ষেত্রেই নয়, সরকারি প্রকল্পের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি তথ্যফলকে একটি বিশেষ কিউআর কোড রাখতে হবে। সেই কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদন, আর্থিক বিবরণ, কাজের অগ্রগতি এবং জিও-ট্যাগিং সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে। ফলে কোনও এলাকায় সরকারি প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং বাস্তবে কাজের পরিস্থিতি কী, তা সাধারণ মানুষ নিজেরাই যাচাই করতে পারবেন।

নবান্নের নির্দেশ, যেসব জায়গায় এখনও তথ্যফলক বসানো হয়নি অথবা পুরনো সাইনবোর্ডে প্রয়োজনীয় তথ্য নেই, সেখানে আগামী ৩০ নভেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে নতুন নিয়ম মেনে সাইনবোর্ড বসাতে বা সংশোধন করতে হবে।

এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং বিডিও-দের। তাঁদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে সরকারি প্রকল্পের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছবে। পাশাপাশি প্রকল্পের খরচ, বরাদ্দ এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে স্বচ্ছতা ও জননজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

Related Articles