দীপান্বিতা কালীপুজোয় তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ঢল, শেষ ‘রাজেশ্বরী’ রূপে সাজবেন মা তারা
প্রথা মেনে ভোরে মঙ্গলারতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মা তারার নিত্যপুজো
Truth of Bengal: দীপান্বিতা কালীপুজো উপলক্ষে উৎসবের আবহে সেজে উঠেছে বীরভূমের তারাপীঠ। পবিত্র এই তিথিতে মা তারার দর্শন পেতে সকাল থেকেই মন্দিরে উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়। বীরভূমের পাঁচ সতীপীঠের অন্যতম এই তীর্থক্ষেত্রে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোরের আলো ফোটার আগেই মন্দির চত্বর থেকে সংলগ্ন শ্মশান এলাকা পর্যন্ত ভক্তদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়।
প্রথা মেনে ভোরে মঙ্গলারতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মা তারার নিত্যপুজো। এরপর বিশেষ আচার মেনে দেবীকে পূর্ণস্নান করিয়ে গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেওয়া হয় সাধারণ ভক্তদের জন্য। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ‘জয় মা তারা’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন পুণ্যার্থীরা। সারাদিন ধরেই মন্দিরে চলছে বিশেষ পূজার্চনা। একইসঙ্গে তারাপীঠের মহাশ্মশানেও দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ হোম-যজ্ঞ ও তান্ত্রিক সাধনার। মন্দির কমিটির অনুমান, দীপান্বিতা কালীপুজো উপলক্ষে এদিন কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হতে পারে। সন্ধ্যারতি ও বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর রাতে বিশেষ সাজে সজ্জিত করা হবে মা তারাকে। দেবীকে ‘রাজেশ্বরী’ রূপে সাজানোর পর গভীর রাতে শুরু হবে মা কালীরূপে তাঁর বিশেষ আরাধনা। দেবীর এই বিশেষ রূপ দর্শনের অপেক্ষায় রয়েছেন অসংখ্য ভক্ত।
অন্যদিকে, বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। মন্দির চত্বরে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পানীয় জল এবং সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনের জন্য লাইন পরিচালনার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক দর্শনার্থী যাতে নির্বিঘ্নে মায়ের দর্শন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক প্রশাসন। উল্লেখ্য, তারাপীঠের আরাধ্যা দেবী মা তারা। এখানকার বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীকে বিভিন্ন দেবীর রূপে পুজো করা হয়। কখনও দুর্গা, কখনও লক্ষ্মী, কখনও সরস্বতী, আবার কখনও কালী রূপে আরাধনা করা হয় তাঁকে। তাই দীপান্বিতা অমাবস্যায় মা তারার কালী রূপের বিশেষ পুজো ঘিরে তারাপীঠে ভক্তদের আবেগ ও উন্মাদনা থাকে অন্য মাত্রায়।






