বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও রাজনীতি! গণতান্ত্রিক অধিকার, পেশাগত দায়িত্ব এবং শিক্ষাঙ্গনের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ক্রমশ আলোচনায় উঠে আসছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কতটা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন?
ড. রাম কৃষ্ণ সেন (লেখক সহকারী শিক্ষক ও গবেষক): শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিক অবস্থান এবং জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন না, তিনি তাঁদের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ, বিচারবোধ, সামাজিক চেতনা এবং ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পথও প্রস্তুত করেন। তাই সমাজে একজন শিক্ষকের অবস্থান অন্য অনেক পেশার তুলনায় স্বতন্ত্র। কিন্তু বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ক্রমশ আলোচনায় উঠে আসছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কতটা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন? একজন শিক্ষক কি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারেন? বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মতাদর্শের চর্চা কতটা গ্রহণযোগ্য? আর শিক্ষকতার পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক সক্রিয়তার সংঘাত তৈরি হলে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই মনে রাখতে হবে, শিক্ষকও একজন সাধারণ নাগরিক। তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক সচেতনতা থাকার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে তাঁর কিছু বিশেষ দায়িত্ব ও নৈতিক বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।
ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার দিয়েছে। একজন শিক্ষকও এই সাংবিধানিক অধিকারের বাইরে নন। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, সরকারের নীতির সমালোচনা করতে পারেন, নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন এবং নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারেন।শিক্ষকদের রাজনৈতিক সচেতনতা থাকা বরং একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে ইতিবাচক। কারণ ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল, অর্থনীতি কিংবা সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয় পড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক যদি সংবিধান, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, নাগরিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথার্থ নাগরিক চেতনা গড়ে তুলবেন কীভাবে? তবে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এক বিষয় নয়। এই পার্থক্যটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
রাজনৈতিক সচেতনতা একজন শিক্ষককে যুক্তিবাদী, অনুসন্ধিৎসু এবং সমাজমনস্ক করে তোলে। অন্যদিকে অন্ধ দলীয় আনুগত্য অনেক সময় তাঁর স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে সংকুচিত করে দেয়। যখন কোনও শিক্ষক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য প্রদর্শন করেন, তখন তাঁর ব্যক্তিগত মতাদর্শ পেশাগত নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি হয়। একজন শিক্ষকের কাজ শিক্ষার্থীদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী করে তোলা নয়, বরং তাঁদের বিভিন্ন মতাদর্শ সম্পর্কে জানানো এবং নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক মত, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা শিক্ষকের শিক্ষাগত দায়িত্বের অংশ হতে পারে। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থীরা মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকে। তাঁরা শিক্ষকদের বক্তব্যকে অনেক সময় প্রশ্নাতীত সত্য বলে গ্রহণ করে। ফলে শিক্ষক যদি শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্য রাখেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও বিচারবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিদ্যালয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং মতের স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, প্রধান শিক্ষক, পরিচালন সমিতি কিংবা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ সকলেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন। কিন্তু যখন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত আলোচনা, বদলি, ছুটি, দায়িত্ব বণ্টন, একাডেমিক কাউন্সিলের কার্যক্রম কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রাধান্য পেতে শুরু করে, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনও শিক্ষক তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা কিংবা পেশাগত দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার কোনও শিক্ষক ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হওয়ায় তাঁকে অবজ্ঞা, উপেক্ষা কিংবা মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি বিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত আইন, বিধি, সরকারি নির্দেশিকা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের ভিত্তিতে। সেখানে রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা ব্যক্তিগত গোষ্ঠীস্বার্থের কোনও স্থান থাকা উচিত নয়। শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। বেতন কাঠামো, পেনশন, চাকরির নিরাপত্তা, বদলি, ছুটি, পেশাগত মর্যাদা, কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষানীতির মতো বিষয় নিয়ে শিক্ষক সংগঠনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু শিক্ষক সংগঠনের কার্যক্রম যখন সম্পূর্ণভাবে দলীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন মূল উদ্দেশ্য অনেক সময় আড়ালে চলে যায়। শিক্ষকদের পেশাগত সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান, ক্ষমতা প্রদর্শন কিংবা দলীয় স্বার্থ রক্ষাই প্রধান হয়ে ওঠে।একজন শিক্ষক কোন সংগঠনের সদস্য হবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক অধিকার এবং প্রযোজ্য বিধিনিষেধের বিষয়। কিন্তু সংগঠনের সদস্যপদ কখনোই অন্য শিক্ষকের প্রতি বৈষম্য, ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। শিক্ষক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হওয়া উচিত যুক্তি, তথ্য, আইন, ঐক্য এবং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার ক্ষমতা।
বিদ্যালয়ের রাজনীতিকরণের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হল শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরা যদি নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেন, তাহলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনও শিক্ষককে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করা, অন্য শিক্ষকের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করা কিংবা শিক্ষার্থীদের সামনে সহকর্মীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা শিক্ষার পরিবেশকে দূষিত করে। শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষক হলেন জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রতীক। তাঁরা যদি দেখেন যে শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে বিভক্ত, তাহলে তাঁদের মনে গণতন্ত্র ও সহনশীলতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। গণতন্ত্রের মূল শিক্ষা হল ভিন্নমতকে সম্মান করা। একজন শিক্ষক যদি নিজের রাজনৈতিক মতের সঙ্গে অন্যের মতের পার্থক্য মেনে নিতে না পারেন, তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শেখাবেন কীভাবে?
ভারতে সরকারি ও সরকার-পোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রযোজ্য চাকরির বিধি ও আচরণবিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে Central Civil Services (Conduct) Rules, 1964-এর Rule 5-এ রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারি বিধি, ডব্লিউবিবিএসই-এর নিয়ম, নিয়োগের শর্ত এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নির্দেশিকা বিবেচনা করতে হবে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে রাজনৈতিক বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত পোষণ করা, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা কিংবা নাগরিক হিসেবে মতপ্রকাশ করা এক বিষয়, আর কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে সক্রিয় প্রচার, দলীয় পদ গ্রহণ, নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ কিংবা সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিরপেক্ষতার পরিপন্থী আচরণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।অতএব, শিক্ষকরা রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক হলেও তাঁদের পেশাগত আচরণে প্রযোজ্য আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলা আবশ্যক। একজন শিক্ষককে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে নয়, বরং তাঁর শিক্ষাদানের দক্ষতা, নিষ্ঠা, সততা, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে বিচার করা উচিত। কোনো শিক্ষক বামপন্থী, দক্ষিণপন্থী, মধ্যপন্থী কিংবা অন্য কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হতে পারেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের দরজা পেরিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর তাঁর প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত শিক্ষক। সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর দায়িত্ব কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।একজন ভাল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখাবেন কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়, কীভাবে যুক্তি দিয়ে কোনো বিষয় বিচার করতে হয়, কীভাবে ভিন্নমতকে সম্মান করতে হয় এবং কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানাতে হয়। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ কর্মী তৈরি করবেন না, তিনি তৈরি করবেন সচেতন, যুক্তিবাদী ও দায়িত্বশীল নাগরিক।
শিক্ষকদের রাজনীতি করা উচিত কি না—এই প্রশ্নের সরল উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ রাজনীতি শুধু দলীয় ক্ষমতার লড়াই নয়, রাজনীতি সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, অধিকার এবং নাগরিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন শিক্ষককে এসব বিষয়ে সচেতন থাকতেই হবে। কিন্তু রাজনৈতিক সচেতনতা যেন কখনও দলীয় অন্ধত্বে পরিণত না হয় এবং রাজনৈতিক পরিচয় যেন পেশাগত দায়িত্বের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। বিদ্যালয় কোনও রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন নয়। প্রধান শিক্ষক কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন।শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনও দলীয় শিবিরের সদস্য হিসেবে নয়, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করবেন। বিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যবস্থা চলবে বিধি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে। মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে এবং ক্ষমতা হারায়। রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তন হয়, সরকার পরিবর্তিত হয়, সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে যায়। কিন্তু একজন শিক্ষকের হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বহু দশক ধরে সমাজকে প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে তাঁর পেশাগত পরিচয় বড় হওয়া উচিত। তাঁর প্রতিবাদ হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাঁর অবস্থান হোক সত্যের পক্ষে, তাঁর আনুগত্য হোক সংবিধান, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি।কারণ একজন রাজনৈতিক কর্মী হয়তো একটি দলের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন, কিন্তু একজন শিক্ষক নির্মাণ করেন আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ। আর সেই নির্মাণের কাজে দলীয় আনুগত্য নয়, প্রয়োজন স্বাধীন চিন্তা, নৈতিক সাহস এবং পেশাগত সততা।


