কলকাতা

ফোন বাজতেই সুইচ অফ করে চম্পট! নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পর কোথায় উধাও মালিক বীরেশ্বর মিত্র?

"রাত্রে ৩টে নাগাদ দাউদাউ করে জ্বলছিল ঘর...!" উল্টোদিকের হোটেলের কর্মীরা ফোন করতেই বেপাত্তা মালিক!

Truth of Bengal: কলকাতার নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ড কাণ্ডে সামনে এল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শুধু ‘শিখা ইন’ নয়, ঠিক তার উল্টো দিকে ‘জাপন’ নামে আরও একটি হোটেল রয়েছে বেহালার বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ী বীরেশ্বর মিত্রের। মঙ্গলবার গভীর রাতে যখন ‘শিখা ইন’-এ দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল, তখন উল্টোদিকের ‘জাপন’ হোটেলের কর্মীরাই প্রথম সেই লেলিহান শিখা দেখতে পান। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত আনুমানিক ৩টে। বিপদ বুঝে তৎক্ষণাৎ মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে ফোন করেন ‘জাপন’-এর কর্মী ইন্দ্রদেব পাসওয়ান। কিন্তু প্রথমবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি, আর তার পরেই রহস্যজনকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন। সেই থেকেই বেপাত্তা হোটেল মালিক।

কলকাতা শহরের ব্যস্ততম এলাকা নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু ছোট ও মাঝারি হোটেল। ঘুপচি ঘর, সংকীর্ণ সিঁড়ি এবং বায়ু চলাচলের ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও পকেটের টানে অনেকেই এই হোটেলগুলিকে বেছে নেন। ‘শিখা ইন’ ও ‘জাপন’, দুটি হোটেলেই নন-এসি ঘরের ভাড়া ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আর এসি ঘর মিলত মাত্র ৮০০ টাকায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা স্বল্প বাজেটের পর্যটকদের প্রধান আশ্রয়স্থল ছিল এই কম দামি হোটেলগুলি। সস্তায় থাকার সুযোগ নিতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি যে কতটা বড় ঝুঁকির হতে পারে, বুধবার সকালের অগ্নিকাণ্ড ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

হোটেল কর্মী ইন্দ্রদেব পাসওয়ান জানান, উল্টোদিকের তিনতলা ভবনে আগুন লাগার দৃশ্য দেখেই তিনি মালিককে অ্যালার্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বারবার চেষ্টার পরও ফোন বন্ধ থাকায় কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও পুলিশ।

আগুন ততক্ষণে বিশাল আকার ধারণ করে একাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক মালিক বীরেশ্বর মিত্রের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। সস্তার মোহ আর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার চূড়ান্ত গাফিলতি কীভাবে মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় তিলোত্তমা।

Related Articles