কলকাতা

শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা নিয়ে নয়া মোড়! মামলা ফেরত পাঠাল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ

মামলাটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তা ফের সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছে

Truth of Bengal: শ্রীরামপুরের মাহেশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে আইনি জটিলতা কাটল না। সভার অনুমতি সংক্রান্ত মামলা নিয়ে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মামলাটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তা ফের সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত মামলাটির নিষ্পত্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার শ্রীরামপুরের মাহেশে মিছিল এবং তার পর সভা করার কর্মসূচি ছিল কালীঘাট তৃণমূলের। সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর জেলায় এটিই তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক সভা হওয়ার কথা। কিন্তু মিছিল ও সভার জন্য পুলিশের অনুমতি নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় আদালতে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ মিছিলের অনুমতি না দিলেও মাহেশের স্নানপিঁড়ির মাঠে প্রায় দু’হাজার মানুষ নিয়ে সভা করার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সভায় ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং শব্দবিধি মেনে চলার বিষয়ে একাধিক শর্তও আরোপ করা হয়। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। আপত্তি জানায় মাহেশের জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষও। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক সভায় আপত্তি নেই। কিন্তু স্নানপিঁড়ির মাঠটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এবং সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। ফলে ওই জায়গায় রাজনৈতিক সভা হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

রাজ্যের আইনজীবীদের যুক্তি, মাঠটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় সম্পত্তি হলে মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রশাসন কীভাবে সেখানে সভার ব্যবস্থা করতে পারে? এই যুক্তির পরই ডিভিশন বেঞ্চ সভার অনুমতির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। শুক্রবার ফের মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওঠে। শুনানি শেষে আদালত জানায়, মামলাটি আবার সিঙ্গল বেঞ্চেই পাঠানো হচ্ছে। মাঠ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আবেদনও সিঙ্গল বেঞ্চকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। ফলে মাহেশের মাঠে মমতার সভা আদৌ হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এদিকে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মন্দিরকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে সভা আটকানোর চেষ্টা চলছে। এমনকী, এর পিছনে অর্থ আদায়ের চেষ্টাও থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এখন নজর সিঙ্গল বেঞ্চের পরবর্তী নির্দেশের দিকে।

Related Articles