কলকাতা

আগুনের গ্রাসে ৯ প্রাণ! কীভাবে ঘটেছিল ট্র্যাজেডি? নিউ মার্কেটের ১৩টি গেস্ট হাউস-বারে ঝুলতে চলেছে তালা?

জতুগৃহ মির্জা গালিব স্ট্রিট! শিখা ইন-এর মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, জারি শোকজ নোটিস!

Truth of Bengal: কলকাতার নিউ মার্কেট লাগোয়া মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের করুণ মৃত্যুর পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্য দমকল বিভাগ। শহরের গিঞ্জি এলাকাগুলিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বড়সর প্রশ্নচিহ্ন। এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তরাঁ-কাম-পানশালাকে শোকজ নোটিস পাঠাল দমকল দফতর।

দমকল আইনের ৩৭এ ধারা অনুযায়ী পাঠানো এই নোটিসে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এই শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তৎক্ষণাৎ ওই হোটেল ও রেস্তরাঁগুলি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বুধবার ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগার পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সেখানে অগ্নি সুরক্ষার ন্যূনতম পরিকাঠামো পর্যন্ত ছিল না। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে বার হওয়ার জন্য থাকা ‘এমারজেন্সি এক্সিট’ বা আপৎকালীন পথটি পাঁচিল তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ৯ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে আটজনই ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক।

এদিকে বুধবারের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিচয় পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত। বৃহস্পতিবার আরও দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। মৃতদের একজন সাতক্ষীরার বাসিন্দা রেবতী সরকার এবং অন্যজন ব্যবসায়ী এসএম আলিমুজ্জামান। বাংলাদেশ হাই কমিশনে থাকা তথ্যের সঙ্গে হোটেলের নথি ও পাসপোর্ট নম্বর মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন তদন্তকারীরা। মৃত আলিমুজ্জামানের ভাগ্নি জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় এসেছিলেন এবং নিউ মার্কেটের ওই গেস্ট হাউসে উঠেছিলেন।

বুধবার সকালেই শিখা ইনে প্রাণ হারিয়েছিলেন সপরিবারে এক বাংলাদেশি সাংবাদিক ও তাঁর নিকটজনেরা। পর্যাপ্ত সুরক্ষা না থাকা এবং জরুরি পথ বন্ধ করে রাখার মতো গাফিলতির খেসারত যেভাবে ৯ জন সাধারণ মানুষকে দিতে হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত শোকজের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে ওই এলাকার একাধিক হোটেল ও বারের ভবিষ্যৎ।

Related Articles