শিল্পে কাটমানির রাজত্ব শেষ! বদলের বাংলায় বিনিয়োগের জোয়ারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
'শুধু ছবি তোলার দিন শেষ!' রাজ্যজুড়ে খুলবে ১৪০টি স্টোর, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের বিরাট উপহার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!
Truth of Bengal: গত দেড় দশক ধরে রাজ্যে শিল্পে অনীহা এবং বিনিয়োগের শূন্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনা চলেছে। বারবার মেগা বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজন করা হলেও বাস্তবে তা বড় কোনও পরিবর্তন আনতে পারেনি বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তবে সাম্প্রতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। এবার কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বাস্তবেও যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, শুক্রবার সিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেই চিত্রই তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন একটি বিখ্যাত বস্ত্র বিপণন সংস্থার নতুন আউটলেট উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলার শিল্পবান্ধব পরিস্থিতির কথা সামনে আনেন। তিনি জানান, ওই সংস্থা আগামী দেড় বছরের মধ্যে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৪০টি নতুন স্টোর খুলতে চলেছে। এর পাশাপাশি পুরুলিয়ায় সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ১০০ একর জমি কেনা হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই প্রকল্পের ভূমিপুজোয় তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। ভবিষ্যতে রাজ্যজুড়ে মোট ১০০০ একর জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে ওই সংস্থার। যার মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হবে এবং কয়েক হাজার যুবকের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে কাটমানি এবং দুর্নীতি প্রশ্রয়ের তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেন যে, এখন আর কেবল ফিতে কাটা বা ছবি তোলার জন্য বিনিয়োগের নাটক করা হচ্ছে না। রাজ্য সরকার প্রতিটি বিনিয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আর্থিক উৎস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেই অনুমোদন দিচ্ছে।
বর্তমানে রাজ্যে শিল্পায়নের এই নতুন জোয়ার কেবল একটি সংস্থাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ইতিমধ্যেই হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দই কারখানা গড়ার ঘোষণা করেছে বিখ্যাত দুগ্ধজাত সংস্থা ‘আমুল’। পাশাপাশি ‘লাক্স কোজি’ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এবং ‘শ্যাম স্টিল’ ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে না থেকে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বহুজাতিক সংস্থা ‘মিৎসুবিসি’।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও আসছে বিরাট পরিবর্তন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন করণ আদানি। নিউটাউন-রাজারহাটে ২০০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক মেগা হাসপাতাল তৈরি করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। শুধু নতুন শিল্পই নয়, এর পাশাপাশি অতীত জমানায় বন্ধ হয়ে যাওয়া জুটমিলগুলিতেও ফের কাজ শুরু হয়েছে। তথ্য বলছে, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই রাজ্যে ১৫টি বন্ধ জুটমিল খুলে গিয়েছে। সব মিলিয়ে, স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলায় এখন নতুন কর্মসংস্থান ও শিল্প সমৃদ্ধির হাওয়া জোরকদমে বইতে শুরু করেছে।






