কলকাতা

পর পর ৩ দিন তলব অভিষেক, ডেরেক ও সুমিতকে! ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে সাঁড়াশি চাপে তৃণমূল

"বেশি দিন এই গুন্ডামি চলবে না!" পুলিশের বাড়িতে নোটিস হানার পর তোপ সুকান্ত মজুমদারের

Truth of Bengal: ক্যামাক স্ট্রিট চত্বরে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হওয়া চরম বিতর্কের মাঝেই শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ তলব করেছিল রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি হাজিরা না দেওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাসভবনে পৌঁছে গিয়ে দ্বিতীয় নোটিস ধরাল পুলিশ। একই মামলার সূত্রে মঙ্গলবার তলব করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবং বুধবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বৃহস্পতিবার। ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ঠিক উপরে থাকা একটি বিলবোর্ড সরাতে গিয়ে চরম ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুরসভা ও পুলিশের যৌথ প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছালে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিষেকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মীদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি এমনকি মারধরের ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, অন্যায়ভাবে জমায়েত করা এবং শ্লীলতাহানির মতো একাধিক মারাত্মক ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে শেক্সপিয়ার সরণি থানা।

তদন্তের স্বার্থে সোমবার বেলা ১২টায় ডেরেক ও’ব্রায়েনকে থানায় তলব করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি হাজির হননি। সূত্রের খবর, নিজের আইনজীবী মারফত ইমেল পাঠিয়ে তিনি সোমবার না আসার কথা জানান। এরপরই বিলম্ব না করে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে অবস্থিত সাংসদের বাসভবনে হাজির হয়ে দ্বিতীয় নোটিস হস্তান্তর করেন পুলিশ আধিকারিকরা।

অন্যদিকে, এই মামলার তদন্তে গতি আনতে ইতিমধ্যেই শনিবার রাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে নোটিস দিয়ে এসেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় তাঁকে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। পরদিন অর্থাৎ বুধবার তলব করা হয়েছে তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কেও। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক পুলিশি নোটিস এবং থানার টানাপোড়েন নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বেশি দিন এসব গুন্ডামি ও মস্তানি চালানো যাবে না। আইন তার নিজের পথে চলবে।” সব মিলিয়ে ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজ্য রাজনীতির পারদ।

Related Articles