বাংলায় বিনিয়োগ টানতে বড় চাল রাজ্য সরকারের! মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মী নিয়োগে ১০০% PF ভর্তুকি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে চলা রাজ্যের নয়া শিল্পনীতিতে এমনই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর
Truth of Bengal: শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোই শুধু নয়, বাংলায় কর্মসংস্থানের নতুন দরজাও খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই এবার মহিলা ও রূপান্তরকামীদের চাকরির সুযোগ বাড়াতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা। কোনও সংস্থা মহিলা বা রূপান্তরকামী কর্মী নিয়োগ করলে তাঁদের জন্য নিয়োগকর্তাকে জমা দিতে হওয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফের পুরো টাকাই ভর্তুকি হিসেবে ফেরত দিতে পারে সরকার। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মিলতে পারে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ইপিএফ ভর্তুকি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে চলা রাজ্যের নয়া শিল্পনীতিতে এমনই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রে এই সুবিধা বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনও সংস্থা কর্মী নিয়োগ করলে নিয়োগকর্তাকে যে অর্থ কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা দিতে হয়, তার একটি নির্দিষ্ট অংশ সরকার ফিরিয়ে দিতে পারে। কর্মীর শ্রেণি অনুযায়ী ভর্তুকির হারও আলাদা হবে। মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ইপিএফের টাকা ফেরত পেতে পারেন। অন্যদিকে, পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে মিলতে পারে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি।
সূত্রের খবর, এমএসএমই সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য ইপিএফে জমা দেওয়া নিয়োগকর্তার সম্পূর্ণ অংশই ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ফেরত পাওয়া যেতে পারে ৫০ শতাংশ। দুই ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে, কর্মীদের বেতন থেকে যে পিএফের টাকা কেটে নেওয়া হয়, তার উপর কোনও ভর্তুকি দেওয়া হবে না। এই আর্থিক সহায়তা শুধুমাত্র নিয়োগকর্তাদের জন্য। অর্থাৎ, কর্মীদের নিয়োগের পর সংস্থার যে অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হয়, তা কমাতেই সরকারের এই উদ্যোগ। এমএসএমই সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। জানা যাচ্ছে, একটি অর্থবর্ষে প্রতিটি ইউনিট সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ইপিএফ ভর্তুকি পেতে পারে। শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নয়, বড় শিল্পসংস্থাগুলিকেও এই সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব থাকতে পারে নয়া শিল্পনীতিতে। তবে বড় শিল্পের ক্ষেত্রে ভর্তুকির নিয়ম কিছুটা আলাদা। সেখানে কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার জমা দেওয়া ইপিএফের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সুবিধা পাওয়া যেতে পারে পাঁচ বছর পর্যন্ত। তবে বড় শিল্পের ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য আলাদা করে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রস্তাব নেই বলেই জানা যাচ্ছে।
আসলে কোনও কর্মীকে নিয়োগ করার পর শুধু তাঁর বেতন নয়, প্রভিডেন্ট ফান্ডে নিয়োগকর্তার নির্দিষ্ট অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকে। ফলে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। সেই খরচের একটা বড় অংশ সরকার বহন করলে নতুন নিয়োগে উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে মহিলা ও রূপান্তরকামীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই নীতি ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে। একদিকে যেমন শিল্পসংস্থাগুলির বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়বে, অন্যদিকে তেমনই কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ এবং রূপান্তরকামীদের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর পথও প্রশস্ত হতে পারে।






