ভারতে বিয়ে হলেও বিদেশের আদালতে চলতে পারে মামলা, বড় রায় কলকাতা হাই কোর্টের
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী যদি বিদেশে বসবাস করেন, তা হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন জানানো আইনত বাধাগ্রস্ত নয়।
Truth Of Bengal: ভারতে বিয়ে হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলতে পারে বিদেশের আদালতে—এমনই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী যদি বিদেশে বসবাস করেন, তা হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন জানানো আইনত বাধাগ্রস্ত নয়।
এই মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় হিন্দু রীতি মেনে এক দম্পতির বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বামী আলিপুর আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। তার ঠিক এক মাস পর স্ত্রী ব্রিটেনের একটি আদালতে বিচ্ছেদের পাশাপাশি ভরণপোষণের আবেদন জানান। স্ত্রীর দাবি, তিনি বহু বছর ধরেই পড়াশোনা ও কর্মসূত্রে ব্রিটেনেই থাকেন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তাঁদের শেষ একসঙ্গে বসবাসও সেখানেই হয়েছিল।
ব্রিটেনের আদালত স্ত্রীর পক্ষে ভরণপোষণের নির্দেশ দিলেও আলিপুর আদালত সেই নির্দেশ স্থগিত রাখে। আলিপুর আদালতের যুক্তি ছিল, মামলার শুনানি ব্রিটেনে হওয়া উচিত নয় এবং সেখানে নির্ধারিত ভরণপোষণের অঙ্কও অযৌক্তিক।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই স্ত্রী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, স্বামী নিজেই ব্রিটেনের আদালতে মামলায় অংশ নিয়েছেন এবং সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও জমা দিয়েছেন। ফলে ওই আদালতের এক্তিয়ার নেই—এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
স্বামীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ব্রিটেনের আইনে যে কারণে বিচ্ছেদের আবেদন করা হয়েছে, সেই কারণ ভারতীয় আইনে বৈধ নয়। তবে হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পুরনো রায় উদ্ধৃত করে জানায়, এই ধরনের পরিস্থিতি মানসিক নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে এবং তা বিচ্ছেদের ভিত্তি হতে পারে।
আদালত স্বীকার করে নেয় যে, হিন্দু বিবাহ আইনে সাধারণত ভারতীয় আদালতেই মামলা করার কথা বলা আছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিচার করলে, এই মামলায় ব্রিটেনের আদালতে শুনানিতে কোনও আইনগত আপত্তি নেই। এই রায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দাম্পত্য বিরোধ সংক্রান্ত মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাল কলকাতা হাই কোর্ট।






