কলকাতা

‘বিক্ষোভের নেপথ্যে তৃণমূলের চক্রান্ত!’ মহিলাদের ক্ষোভ ফুটতেই তোপ দিলীপ ঘোষের

তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে নির্বিচারে অনুদানের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলেই এখন প্রত্যাশা বেড়েছে

Truth of Bengal: চলতি মাসেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি বহু মহিলা। সেই অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, সব সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সবার জন্য নয় এবং যোগ্যতার নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করলেই উপভোক্তারা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বর্তমান বিক্ষোভের নেপথ্যে তৃণমূলের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শনিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, অতীতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের কারণে সবার মধ্যে সরকারি সুবিধা পাওয়ার একটি অভ্যাস তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি প্রকল্পেরই নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত থাকে। সেই শর্তের মধ্যে যাঁরা পড়বেন, তাঁরাই সুবিধা পাবেন।

দিলীপের বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই সরকারই বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালায়। কিন্তু প্রতিটি প্রকল্পের নির্দিষ্ট সীমা এবং মাপকাঠি রয়েছে। তাই সবাইকে একসঙ্গে সমস্ত সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে নির্বিচারে অনুদানের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলেই এখন প্রত্যাশা বেড়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান বহু মহিলা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে প্রশাসনিক বৈঠক মাঝপথে থামিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় মন্ত্রীকে। অগ্নিমিত্রা পালও বিক্ষোভের নেপথ্যে তৃণমূলের ভূমিকা থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক আবেদন আপলোড ও যাচাই করতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের ভিতরে থাকা তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গোলমাল পাকাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এই একই অভিযোগ এর আগে তুলেছিলেন বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়িও। তাঁর দাবি, যোগ্য আবেদনকারীদের একাংশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যার জেরেই বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে মহিলাদের ক্ষোভের সঙ্গে এবার রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হচ্ছে। একদিকে উপভোক্তাদের দাবি, আবেদন করেও টাকা মেলেনি; অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এই অসন্তোষের পিছনে বিরোধীদের ইন্ধন রয়েছে।

Related Articles